New Updates

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Class 12 Bengali TBSE, CBSE Final Board Suggestion - সবুজের অভিযান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 


সবুজের অভিযান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ১ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

২. কবিতাটির মূল আহ্বান কাকে উদ্দেশ্য করে?
উত্তর: নবীন বা তরুণ প্রজন্মকে।

৩. কবিতায় ‘কাঁচা’ শব্দটি কী বোঝায়?
উত্তর: নবীন, তরুণ ও প্রাণবন্ত মানুষ।

৪. ‘আধ মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা’—এখানে ‘আধ মরা’ কাদের বোঝায়?
উত্তর: ভীরু, জড় ও নিষ্ক্রিয় মানুষদের।

৫. কবিতায় ‘রক্ত আলোয় মদে মাতাল ভোর’ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: বিপ্লবী নতুন সকালের সূচনা।

৬. কবি কেন সব তর্ককে তুচ্ছ করতে বলেছেন?
উত্তর: সাহসী কর্মে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

৭. ‘খাঁচাখানা’ প্রতীকটি কী বোঝায়?
উত্তর: সমাজের বাধা ও বন্দিত্ব।

৮. ‘প্রবীণ’ ও ‘পরম পাকা’ কার প্রতীক?
উত্তর: রক্ষণশীল ও স্থবির মানুষদের।

৯. কবিতায় কারা ‘খাঁচায় বন্দি’?
উত্তর: ভীত ও চিন্তাহীন মানুষরা।

১০. ‘বান ডেকেছে’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: বিপ্লব বা বড় পরিবর্তনের আহ্বান।

১১. কবিতায় ‘মাটির ছেলে’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সাধারণ মানুষ বা নবীন যুবক।

১২. ‘উচ্চ বাঁশের মাচা’ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: আরাম ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

১৩. কবিতায় কেন সবাই নবীনকে মানা করবে?
উত্তর: সে প্রচলিত নিয়ম ভাঙতে চায় বলে।

১৪. সংঘাতে কারা রেগে উঠবে?
উত্তর: রক্ষণশীল ও সুবিধাভোগীরা।

১৫. ‘মিথ্যা এবং সাঁচা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মিথ্যা ও সত্যের লড়াই।

১৬. ‘শিকল দেবীর পূজাবেদি’ কী প্রতীক?
উত্তর: কুসংস্কার ও দাসত্ব।

১৭. কবি কেন ‘দুয়ার ভেদি’ হতে বলেছেন?
উত্তর: সব বাধা ভেঙে বেরিয়ে আসার জন্য।

১৮. ‘ঝড়ের মাতন’ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: দুরন্ত বিপ্লবী শক্তি।

১৯. ‘ভোলানাথের ঝোলাঝুলি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পুরোনো, অচল চিন্তা।

২০. কবি কেন ‘ভুলগুলো বাছা বাছা’ আনতে বলেছেন?
উত্তর: ভুল চিন্তা দূর করার জন্য।

২১. ‘বাঁধা পথ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রচলিত ও নিয়ন্ত্রিত জীবনপথ।

২২. ‘অজানাদের দেশ’ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: নতুন ও অচেনা সম্ভাবনার জগৎ।

২৩. কবিতায় বিপদের কথা জেনেও কেন এগোতে বলা হয়েছে?
উত্তর: সাহস ও জীবনের তাগিদে।

২৪. ‘পুঁথিপোড়ো’ কাদের বোঝায়?
উত্তর: বইপড়া কিন্তু কর্মবিমুখ মানুষ।

২৫. কবি কিসের বিধিবিধান যাচা করতে বলেছেন?
উত্তর: পথে চলার অচল নিয়ম।

২৬. ‘চিরযুবা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চিরতরুণ ও অমর প্রাণশক্তি।

২৭. ‘সবুজ নেশা’ কী প্রতীক?
উত্তর: জীবনের উচ্ছ্বাস ও তারুণ্য।

২৮. ‘ঝড়ের মেঘে তড়িৎ ভরা’ কথার অর্থ কী?
উত্তর: নবীনের ভেতরের বিপ্লবী শক্তি।

২৯. ‘বকুল মালাগাছা’ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা।

৩০. কবিতার মূল বার্তা কী?
উত্তর: নবীনদের সাহসী, মুক্ত ও বিপ্লবী হয়ে ওঠার আহ্বান।


১. কবি ‘ওরে আমার কাঁচা’ বলে কাকে আহ্বান করেছেন? এই আহ্বানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
কবি ‘ওরে আমার কাঁচা’ বলে মূলত নবীন প্রজন্ম, তরুণ সমাজ ও নবজাগ্রত চেতনাকে আহ্বান করেছেন। ‘কাঁচা’ শব্দটি এখানে অপরিণত বা দুর্বল অর্থে নয়, বরং সম্ভাবনাময়, প্রাণবন্ত ও পরিবর্তনসক্ষম শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কবি বিশ্বাস করেন যে সমাজের নবীন শক্তিই পারে পুরোনো, জীর্ণ, স্থবির ও অনাচারগ্রস্ত ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন পথের সূচনা করতে। তাই কবি তরুণদের উদ্দেশে এই আবেগঘন ডাক দিয়েছেন।

কবিতার শুরুতেই কবি নবীনকে ‘সবুজ’, ‘অবুঝ’ এবং ‘দুরন্ত’ বলে চিহ্নিত করেছেন। ‘সবুজ’ জীবনীশক্তি ও নবজীবনের প্রতীক, ‘অবুঝ’ মানে প্রচলিত সামাজিক কূটচাল ও ভণ্ডামির দ্বারা দূষিত নয়, আর ‘দুরন্ত’ মানে নিয়মভাঙা সাহসী। কবি চান এই তরুণরা যেন সমাজের ‘আধ মরাদের’—অর্থাৎ মানসিকভাবে মৃত, ভীতু ও আত্মকেন্দ্রিক মানুষের আঘাত করে জীবনের পক্ষে দাঁড়ায়।

কবির আহ্বান কেবল ব্যক্তিগত মুক্তির নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক মুক্তির আহ্বান। সমাজে বহু প্রবীণ মানুষ আছে যারা বাহিরের পরিবর্তন দেখতে চায় না, নিজের সুবিধা ও নিরাপত্তার খাঁচায় বন্দি থেকে জীবন কাটায়। কবি এই প্রবীণ ও পাকা মানুষদের বিপরীতে নবীন শক্তিকে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর মতে, এই নবীনরাই পারে ঘুমন্ত সমাজকে জাগাতে।

এই আহ্বানের গভীরে রয়েছে বিপ্লবী চেতনা। কবি চান নবীনরা যেন সমস্ত তর্ক, সমালোচনা ও বাধাকে তুচ্ছ করে নিজের পথ ধরে এগিয়ে যায়। সমাজের প্রচলিত নিয়ম, কুসংস্কার ও ভীরুতাকে অতিক্রম করে তারা যেন জীবনের সত্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।

অতএব, ‘ওরে আমার কাঁচা’ শুধু একটি আবেগঘন ডাক নয়—এটি একটি আদর্শিক আহ্বান, যেখানে কবি তরুণ সমাজকে ইতিহাসের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করছেন। এই আহ্বান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

২. কবিতায় ‘খাঁচা’ প্রতীকের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:
‘খাঁচা’ এই কবিতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কবি ‘খাঁচা’ বলতে বোঝাতে চেয়েছেন সমাজের স্থবিরতা, ভীরুতা, আত্মকেন্দ্রিকতা এবং জড়তাকে। কবিতায় বলা হয়েছে—“খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায় / আর তো কিছুই নড়ে না রে ওদের ঘরে।” এই পংক্তিতে বোঝা যায় যে সমাজের বহু মানুষ নিরাপত্তা ও স্বার্থের খাঁচায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তারা সামান্য হাওয়ায় দুললেও প্রকৃত পরিবর্তনের সাহস দেখাতে পারে না।

খাঁচার ভেতরে থাকা মানুষগুলো বাহিরের বিপদ বা সম্ভাবনার দিকে তাকাতে চায় না। তারা দেখে না যে ‘বান ডেকেছে’ বা ‘জোয়ার জলে উঠছে প্রবল ঢেউ’। অর্থাৎ সমাজে যে বড় পরিবর্তন আসছে, যে সংকট বা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা উদাসীন। এই মানসিকতা কবির দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

খাঁচা প্রতীকটি আরও গভীর অর্থ বহন করে। এটি কেবল সামাজিক নয়, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বন্দিত্বকেও নির্দেশ করে। মানুষ অভ্যাস, ভয়, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক সম্মান ও ভ্রান্ত নৈতিকতার শিকলে নিজেকে বেঁধে রাখে। এই শিকলই খাঁচার রূপ নেয়।

কবি এই খাঁচাভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন নবীনদের মাধ্যমে। তাঁর মতে, যাঁরা জীবন্ত, প্রাণবান ও দুরন্ত, তারাই পারে এই খাঁচা ভেঙে বাহিরের মুক্ত আকাশে পা রাখতে। খাঁচার ভেতরে থাকা প্রবীণরা ‘চিত্রপটে আঁকা’ মানুষের মতো—নিষ্প্রাণ ও স্থবির।

খাঁচা আসলে এক ধরনের স্বেচ্ছা বন্দিত্ব। কেউ জোর করে কাউকে খাঁচায় ঢোকায় না; মানুষ নিজেই ভয় ও স্বার্থের কারণে খাঁচা বেছে নেয়। কবি এই আত্মবন্দিত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন।

সুতরাং, ‘খাঁচা’ প্রতীকটি কবিতার কেন্দ্রীয় ভাবকে শক্তিশালী করে—যেখানে মুক্তি বনাম বন্দিত্ব, জীবন বনাম জড়তা এবং নবীন বনাম প্রবীণের দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

৩. কবি কেন প্রবীণ ও ‘পরম পাকা’ মানুষদের সমালোচনা করেছেন?

উত্তর:
কবি প্রবীণ ও ‘পরম পাকা’ মানুষদের সমালোচনা করেছেন কারণ তারা সমাজের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কবিতায় প্রবীণদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যারা ‘চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা’—অর্থাৎ তারা দেখতে ও শুনতে চায় না। বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে তারা নিরাপদ অন্ধকারে বসবাস করে।

এই প্রবীণরা অভ্যাসের দাস। তারা দীর্ঘদিন ধরে যে নিয়ম, বিশ্বাস ও কাঠামোর মধ্যে বাস করেছে, সেটাকেই চূড়ান্ত সত্য বলে মনে করে। ফলে নতুন চিন্তা, নতুন পথ ও নতুন প্রশ্ন তাদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। কবি এই মানসিকতাকে মৃতপ্রায় বলেছেন।

‘পরম পাকা’ শব্দটি এখানে ব্যঙ্গাত্মক। পাকা মানে অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ হলেও কবিতায় এই পাকা মানুষরা আসলে জড়, ভীতু ও আত্মতুষ্ট। তারা সমাজের বিপদ দেখেও নড়ে না, কারণ তাদের আর কিছু হারানোর নেই।

কবি বিশ্বাস করেন যে সমাজের পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ঝুঁকি নেওয়ার সাহস। কিন্তু প্রবীণরা সেই ঝুঁকি নিতে চায় না। তারা নিজেদের ‘উচ্চ বাঁশের মাচা’য় বসে নিরাপদে থাকতে চায়, যেখানে ঢেউ বা ঝড় পৌঁছাতে পারে না।

এই প্রবীণদের মানসিকতা সামাজিক অন্যায়কে দীর্ঘস্থায়ী করে। অন্যায়, শোষণ ও মিথ্যা নিয়ম তারা মেনে নেয়, কারণ এতে তাদের সুবিধা অটুট থাকে। কবি তাই নবীনদের আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রবীণ মানসিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।

অতএব, প্রবীণদের সমালোচনা আসলে বয়সের নয়, মানসিকতার সমালোচনা। কবি জড়তা ও আত্মতুষ্টির বিরুদ্ধে জীবনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

৪. কবিতায় ‘বিদ্রোহ’ ও ‘সংঘাত’-এর ধারণা কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর:
এই কবিতার অন্যতম প্রধান সুর হলো বিদ্রোহ। কবি নবীনদের আহ্বান করেছেন যেন তারা সংঘাতের পথে এগোতে ভয় না পায়। কবিতায় বলা হয়েছে—“সংঘাতে তোর উঠবে ওরা রেগে”—অর্থাৎ পরিবর্তনের চেষ্টা করলে সমাজের প্রতিষ্ঠিত শক্তি ক্ষুব্ধ হবে, বাধা দেবে।

কবি সংঘাতকে নেতিবাচক নয়, বরং প্রয়োজনীয় বলে দেখেছেন। কারণ অন্যায় ও মিথ্যার সঙ্গে আপস করে সমাজ এগোতে পারে না। সংঘাত মানে ধ্বংস নয়, বরং সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই।

এই বিদ্রোহ অরাজকতা নয়। কবি চান নবীনরা যেন ‘মিথ্যা এবং সাঁচা’-র মধ্যে লড়াই করে। অর্থাৎ সত্য-মিথ্যার বিচার করে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়।

কবির বিদ্রোহের ধারণা মানবিক ও নৈতিক। এটি শোষণ, কুসংস্কার ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে। এই সংঘাতের মধ্য দিয়েই সমাজ জেগে উঠবে।

প্রশ্ন–5

‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতায় কবি নবীন প্রজন্মকে কীভাবে পুরাতন, জড় ও স্থবির সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে আহ্বান জানিয়েছেন—বিশদ আলোচনা করো।

উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ এক অর্থে নবজাগরণের মন্ত্র। এই কবিতায় কবি নবীন প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়েছেন পুরাতন, জীর্ণ, স্থবির ও ভীত সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামতে। এখানে ‘নবীন’, ‘কাঁচা’, ‘সবুজ’, ‘অবুঝ’—এই শব্দগুলি কেবল বয়সগত তরুণতাকে নির্দেশ করে না, বরং এক নতুন চেতনা, এক নবীন জীবনবোধের প্রতীক। কবি বিশ্বাস করেন, সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন আসে সেই সব তরুণদের হাত ধরেই, যারা পুরাতনের ভয়, যুক্তি ও আপসকে অগ্রাহ্য করতে পারে।

কবিতার শুরুতেই কবি বলেন—
“আধ মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা”—
এই পঙ্‌ক্তিতে কবির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত তীব্র। ‘আধ মরারা’ হলো সেইসব মানুষ, যারা জীবিত থেকেও প্রাণহীন—ভয়, অভ্যাস ও সুবিধার খাঁচায় বন্দী। তারা সমাজের পরিবর্তন চায় না, বরং স্থিতাবস্থাকে আঁকড়ে ধরে। কবি নবীনকে বলেন, এই মৃতপ্রায় শক্তির বিরুদ্ধে আঘাত করেই বাঁচতে হবে। এখানে আঘাত মানে শারীরিক হিংসা নয়, বরং চিন্তা, সাহস ও কর্মের আঘাত।

কবি পুরাতন সমাজকে ‘খাঁচা’ রূপে চিহ্নিত করেছেন—
“খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায় / আর তো কিছুই নড়ে না রে”—
এই খাঁচার ভিতরে আছে ‘প্রবীণ’ ও ‘পরম পাকা’ মানুষরা, যারা চোখ-কান বন্ধ করে অন্ধকারে ঝিমিয়ে থাকে। তারা বাইরে আসা জোয়ার, বান বা পরিবর্তনের ডাক শুনতে পায় না। সমাজের এই অংশটি নিষ্ক্রিয়, ভীরু ও আত্মতুষ্ট। কবি নবীনকে আহ্বান জানান এই খাঁচা ভাঙতে, কারণ খাঁচা যতদিন থাকবে, ততদিন সমাজ মুক্ত হবে না।

নবীন যখন আলো দেখে, তখন সমাজ তাকে বাধা দেয়, মানা করে। কবি স্পষ্ট করে বলেন—
“তোরে হেথায় করবে সবাই মানা”—
কারণ নতুন চিন্তা পুরাতনের স্বার্থে আঘাত হানে। নবীনের বিদ্রোহে সংঘাত আসবে, মানুষ রেগে উঠবে, কিন্তু সেই সংঘাতই জাগরণের সুযোগ। কবি চান নবীন যেন সেই মুহূর্তে ঘুম ভেঙে ‘মিথ্যা এবং সাঁচায়’ লড়াই শুরু করে—অর্থাৎ কুসংস্কার, ভণ্ডামি ও ভ্রান্ত যুক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।

এই কবিতায় কবি ধর্মীয় ও সামাজিক আচারকেও প্রশ্ন করেছেন—
“শিকল দেবীর ঐ যে পূজাবেদি / চিরকাল কি রইবে খাড়া?”
এখানে ‘পূজাবেদি’ প্রতীক সেইসব অন্ধ আচার ও প্রথার, যা মানুষকে শৃঙ্খলিত করে। কবি নবীনকে বলেন—“দুয়ার ভেদি”—অর্থাৎ দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসো। এই বিদ্রোহ ভাঙচুরের জন্য নয়, বরং মুক্তির জন্য।

সার্বিকভাবে বলা যায়, কবিতাটি নবীন প্রজন্মের প্রতি এক তীব্র আহ্বান—পুরাতনের ভয়, স্থবিরতা ও জড়তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে সমাজকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান।

প্রশ্ন–6

‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতায় নবীন শক্তিকে চিরযুবা ও চিরজীবী রূপে কল্পনা করে কবি কীভাবে ভবিষ্যৎ সমাজের রূপরেখা এঁকেছেন—বিশদ আলোচনা করো।

উত্তর:
‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ নবীন শক্তিকে কেবল বর্তমানের বিদ্রোহী হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ সমাজের নির্মাতা হিসেবে কল্পনা করেছেন। কবির কাছে নবীন হলো চিরযুবা ও চিরজীবী—যে সময়ের সীমা মানে না, জীর্ণতা ও বার্ধক্যকে অতিক্রম করে। এই নবীন শক্তির মধ্যেই কবি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখেছেন।

কবিতায় নবীনের রূপ সবুজ, উদ্দাম ও প্রাণবন্ত। ‘সবুজ নেশা’, ‘ভোর’, ‘ঝড়ের মেঘ’, ‘তড়িৎ’—এই সমস্ত চিত্রকল্প নবীনের শক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতীক। কবি বলেন—
“চিরযুবা তুই যে চিরজীবী”—
অর্থাৎ নবীন কেবল একটি সময়কাল নয়, বরং এক অনন্ত জীবনবোধ। এই জীবনবোধ পুরাতনের জরা ঝরিয়ে দিয়ে নতুন প্রাণ ছড়িয়ে দেয়।

কবি জানেন নবীনের পথে বিপদ আছে, আঘাত আছে—
“আপদ আছে জানি আঘাত আছে”—
কিন্তু সেই বিপদই নবীনের প্রাণকে নাচিয়ে তোলে। কবি এখানে সংগ্রামকে নেতিবাচক হিসেবে দেখাননি; বরং সংগ্রামই জীবনের প্রকৃত উৎস। নবীন যত বাধার মুখোমুখি হয়, ততই সে শক্তিশালী হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

ভবিষ্যৎ সমাজের রূপরেখায় কবি চান মুক্ত পথচলা—
“পথ কেটে যাই অজানাদের দেশে”—
এই অজানা দেশ মানে নতুন ভাবনা, নতুন সমাজ, নতুন মানবিক সম্পর্ক। পুরাতন পুঁথিগত বিধি, সংকীর্ণ নীতিবোধ ও কৃত্রিম শৃঙ্খল ভেঙে নবীনকে নিজের পথ নিজে তৈরি করতে হবে। কবি চান না নবীন পুরাতনের ছায়া হয়ে থাকুক; তিনি চান নবীন নিজেই হোক পথপ্রদর্শক।

কবিতার শেষভাগে নবীনের রূপ প্রায় অমর হয়ে ওঠে—
“আয় রে অমর, আয় রে আমার কাঁচা”—
এই অমরত্ব শারীরিক নয়, আদর্শিক। নবীনের আদর্শ—মুক্তি, সাহস, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা—এইগুলোই চিরকাল বেঁচে থাকবে। কবি বিশ্বাস করেন, নবীন শক্তিই বসন্তকে উন্মুখ করে, সমাজে নতুন ফুল ফোটায়।

সবশেষে বলা যায়, এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথ নবীনকে ভবিষ্যৎ সমাজের প্রাণশক্তি হিসেবে কল্পনা করেছেন। পুরাতন যতই বাধা দিক, নবীন তার সবুজ শক্তিতে নতুন পৃথিবী নির্মাণ করবেই—এই বিশ্বাসই কবিতার মূল সুর।

অন্যান্য কবিতা গুলির সাজেশন পেতে নীচে ক্লিক করুন -

‘নারী’ – কাজী নজরুল ইসলাম

‘কালবৈশাখী’ – মোহিতলাল মজুমদার

 ‘যুদ্ধ কেন?’ – দিনেশ দাস

‘আগামী’ – সুকান্ত ভট্টাচার্য

 ধ্বনির পরিবর্তন

Post a Comment

0 Comments