কবিতা: ‘আগামী’ – সুকান্ত ভট্টাচার্য
১. ‘আগামী’ কবিতার রচয়িতা কে?
উত্তর: সুকান্ত ভট্টাচার্য।
২. কবিতায় কবি নিজেকে কী বলে পরিচয় দিয়েছেন?
উত্তর: এক অঙ্কুরিত বীজ।
৩. কবি নিজেকে ‘জড় নই, মৃত নই’ কেন বলেছেন?
উত্তর: তিনি জীবন্ত ও সচেতন প্রাণ।
৪. কবির চোখে কী ঘিরে রয়েছে?
উত্তর: স্বপ্ন।
৫. ‘বটবৃক্ষের সমাজে’ কবি নিজেকে কেমন বলেছেন?
উত্তর: নগণ্য ও তুচ্ছ।
৬. ক্ষুদ্র শরীরের মধ্যে কী বাজে বলে কবি বলেছেন?
উত্তর: গোপন মর্মরধ্বনি।
৭. কবি কী বিদীর্ণ করেছেন?
উত্তর: মাটি।
৮. মাটি বিদীর্ণ করে কবি কী দেখেছেন?
উত্তর: আলোর আনাগোনা।
৯. কবির শিকড়ে কিসের চেতনা রয়েছে?
উত্তর: অরণ্যের বিশাল চেতনা।
১০. কবি বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে?
উত্তর: অঙ্কুরিত অবস্থায়।
১১. আগামী কালে কবির কী গজাবে?
উত্তর: ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতা।
১২. উদ্দাম হাওয়ার তালে কবি কী করবে?
উত্তর: মাথা নাড়াবে।
১৩. কবি কাদের মুখে বিস্মিত ফুল ফোটাবে?
উত্তর: প্রতিবেশী গাছেদের।
১৪. কঠিন ঝড়ে শিকড়ের কী গুণ প্রকাশ পায়?
উত্তর: দৃঢ়তা।
১৫. ‘অঙ্কুরিত বন্ধু’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: নতুন গাছ বা নবপ্রজন্ম।
১৬. নব অরণ্যের গান কে গাইবে?
উত্তর: অঙ্কুরিত বন্ধুরা।
১৭. আগামী বসন্তে কবি কাদের সঙ্গে মিশবে?
উত্তর: বৃহতের দলে।
১৮. কবি নিজেকে ভবিষ্যতে কী মনে করেন?
উত্তর: ভাবী বনস্পতি।
১৯. কবি কিসের রসে পুষ্ট হন?
উত্তর: বৃষ্টি ও মাটির রসে।
২০. কবিতার মূল ভাব কী?
উত্তর: আশা, বিকাশ ও ভবিষ্যতের প্রতি অটল বিশ্বাস।
১. ‘আগামী’ কবিতায় কবি কীভাবে ‘অঙ্কুরিত বীজ’-এর প্রতীকের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মানবসমাজের স্বপ্ন ব্যক্ত করেছেন—বিশদ আলোচনা করো।
উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আগামী’ কবিতাটি মূলত ভবিষ্যৎমুখী মানবচেতনার এক শক্তিশালী কাব্যিক ঘোষণা। এই কবিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘অঙ্কুরিত বীজ’-এর প্রতীক, যার মাধ্যমে কবি ব্যক্তি থেকে সমাজ, বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ—এই ধারাবাহিক বিকাশের চিত্র এঁকেছেন। কবিতার প্রথম পঙ্ক্তিতেই কবি ঘোষণা করেন—তিনি জড় নন, মৃত নন, অন্ধকারের কোনো খনিজ নন; বরং তিনি জীবন্ত প্রাণ, এক অঙ্কুরিত বীজ। এই বক্তব্যে কবি নিজের অস্তিত্বকে স্থবিরতা ও মৃত্যুর বিপরীতে স্থাপন করেছেন।
‘অঙ্কুরিত বীজ’ এখানে কেবল প্রকৃতির একটি উপাদান নয়; এটি নবীন মানবচেতনা, বিপ্লবী সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের প্রতীক। বীজ মাটিতে লালিত, আপাতদৃষ্টিতে ভীরু ও ক্ষুদ্র হলেও তার ভিতরে থাকে অরণ্যের বিশাল সম্ভাবনা। কবি বলেন, যদিও তিনি বটবৃক্ষের সমাজে নগণ্য, তবুও তাঁর ক্ষুদ্র শরীরের মধ্যে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে। এই মর্মরধ্বনি হল ভবিষ্যতের ডাক, সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কবি আরও বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই মাটি বিদীর্ণ করেছেন ও আলোর আনাগোনা দেখেছেন। অর্থাৎ বাধা অতিক্রম করে তিনি জাগরণের পথে এগোচ্ছেন। তাঁর শিকড়ে অরণ্যের বিশাল চেতনা—এটি ব্যক্তিগত চেতনার সঙ্গে সমষ্টিগত চেতনার সংযোগ নির্দেশ করে। এখানে সুকান্ত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে দেখেন না; বরং সমাজের বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবে কল্পনা করেন।
কবিতার পরবর্তী অংশে অঙ্কুর থেকে পাতা, শাখা ও ফুলে রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে। এই বিকাশ প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণের প্রতীক। উদ্দাম হাওয়া, কঠিন ঝড়—সব প্রতিকূলতার মধ্যেও শিকড় দৃঢ় থাকে। এটি বিপ্লবী চেতনার দৃঢ়তার ইঙ্গিত। একা নয়, অঙ্কুরিত বন্ধুদের সঙ্গে মিলেই নব অরণ্যের গান গাওয়া হবে—অর্থাৎ সমবেত আন্দোলন ও যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
এইভাবে ‘অঙ্কুরিত বীজ’-এর প্রতীকের মাধ্যমে কবি আশাবাদী, সংগ্রামী ও মানবিক ভবিষ্যৎ সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
0 Comments