New Updates

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

📚 TBSE Political Science: Chapter 1 – Cold War Important suggestion - Final Board


ঠান্ডা যুদ্ধ : ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ১ নম্বরের প্রশ্ন–উত্তর





  1. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধ কী?
    উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঠান্ডা যুদ্ধ বলা হয়।

  2. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কাল কত?
    উত্তর: ১৯৪৭ থেকে ১৯৯১ সাল।

  3. প্রশ্ন: ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
    উত্তর: জর্জ অরওয়েল।

  4. প্রশ্ন: জর্জ অরওয়েল কোন সালে ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেন?
    উত্তর: ১৯৪৫ সালে।

  5. প্রশ্ন: জর্জ অরওয়েল কোন প্রবন্ধে এই শব্দটি ব্যবহার করেন?
    উত্তর: পারমাণবিক অচলাবস্থা নিয়ে একটি প্রবন্ধে।

  6. প্রশ্ন: আমেরিকায় প্রথম কে ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেন?
    উত্তর: বার্নার্ড বারুচ।

  7. প্রশ্ন: বার্নার্ড বারুচ কোথায় বক্তৃতা দেন?
    উত্তর: দক্ষিণ ক্যারোলিনার কলম্বিয়ার স্টেট হাউসে।

  8. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধের মূল দুটি পরাশক্তি কোন দুটি দেশ?
    উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।

  9. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধকে কেন “ঠান্ডা” বলা হয়?
    উত্তর: কারণ সরাসরি যুদ্ধ হয়নি।

  10. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধ কোন কোন ক্ষেত্রে পরিচালিত হয়েছিল?
    উত্তর: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রচারণার ক্ষেত্রে।

  11. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধের সময় কোন আদর্শিক সংঘর্ষ ছিল?
    উত্তর: পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে।

  12. প্রশ্ন: পুঁজিবাদের নেতৃত্বে ছিল কোন দেশ?
    উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

  13. প্রশ্ন: সমাজতন্ত্রের নেতৃত্বে ছিল কোন দেশ?
    উত্তর: সোভিয়েত ইউনিয়ন।

  14. প্রশ্ন: মার্শাল পরিকল্পনা কোন দেশের উদ্যোগে নেওয়া হয়?
    উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

  15. প্রশ্ন: মার্শাল পরিকল্পনার উদ্দেশ্য কী ছিল?
    উত্তর: পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন।

  16. প্রশ্ন: ন্যাটো (NATO) কবে গঠিত হয়?
    উত্তর: ১৯৪৯ সালে।

  17. প্রশ্ন: ন্যাটোর পূর্ণরূপ কী?
    উত্তর: North Atlantic Treaty Organization।

  18. প্রশ্ন: ওয়ারশ চুক্তি কবে গঠিত হয়?
    উত্তর: ১৯৫৫ সালে।

  19. প্রশ্ন: কোরিয়ান যুদ্ধ কবে শুরু হয়?
    উত্তর: ১৯৫০ সালে।

  20. প্রশ্ন: কোরিয়ান যুদ্ধ কোন দুটি দেশের মধ্যে হয়?
    উত্তর: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।

  21. প্রশ্ন: কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট কবে ঘটে?
    উত্তর: ১৯৬২ সালে।

  22. প্রশ্ন: কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তর: এটি পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছিল।

  23. প্রশ্ন: পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
    উত্তর: ১৯৬৩ সালে।

  24. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধের সময় গুপ্তচরবৃত্তির একটি উদাহরণ কী?
    উত্তর: U-2 গুপ্তচর বিমান ঘটনা।

  25. প্রশ্ন: ডিটাঁৎ (Détente) বলতে কী বোঝায়?
    উত্তর: পরাশক্তিদের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস।

  26. প্রশ্ন: বার্লিন প্রাচীর কবে ভেঙে পড়ে?
    উত্তর: ১৯৮৯ সালে।

  27. প্রশ্ন: সোভিয়েত ইউনিয়ন কবে ভেঙে যায়?
    উত্তর: ১৯৯১ সালে।

  28. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধের অবসানের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
    উত্তর: মিখাইল গর্বাচেভ।

  29. প্রশ্ন: SALT-এর পূর্ণরূপ কী?
    উত্তর: Strategic Arms Limitation Talks।

  30. প্রশ্ন: ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তর: এটি দ্বিমেরু বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটায়।

প্রশ্ন ১: ঠান্ডা যুদ্ধ কী এবং এর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।

✅ নম্বর: ৪ | শব্দসংখ্যা: প্রায় ৭৩০+

উত্তর:

"ঠান্ডা যুদ্ধ" (Cold War) বলতে এমন এক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে বোঝায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR)-এর মধ্যে শুরু হয় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে শেষ হয়। এই দ্বন্দ্ব ছিল মূলত রাজনৈতিক, আদর্শিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সংঘটিত, তবে কখনোই এটি সরাসরি যুদ্ধের রূপ নেয়নি—এই কারণেই একে “ঠান্ডা” যুদ্ধ বলা হয়।

❄️ ঠান্ডা যুদ্ধ কীভাবে শুরু হয়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় বিশ্ব দুইটি পরাশক্তির মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে—একদিকে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাস করত, আর অন্যদিকে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, যারা সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাইত। যদিও এরা যুদ্ধ চলাকালীন সময় মিত্র হিসেবে একসঙ্গে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে লড়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হতেই মতাদর্শিক বিভেদ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

🧱 ঠান্ডা যুদ্ধের মূল কারণ:

  1. আদর্শগত সংঘাত:
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পুঁজিবাদ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করতে, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মালিকানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন চেয়েছিল কমিউনিজমের আদর্শ প্রচার করতে, যেখানে রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।

  2. যুদ্ধপরবর্তী শক্তি পুনর্বিন্যাস:
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এই সময় আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ই ইউরোপের দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। আমেরিকা চালু করে মার্শাল প্ল্যান, যার মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের দেশে কমিউনিস্ট সরকার কায়েম করে তাদের অধীনে রাখে।

  3. পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা:
    ১৯৪৫ সালে আমেরিকা প্রথম পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায় এবং হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলে যুদ্ধ শেষ করে। ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নও পরমাণু বোমার সফল পরীক্ষা করে। এরপর থেকেই শুরু হয় অস্ত্র প্রতিযোগিতা।

  4. উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (NATO) ও ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact):
    ১৯৪৯ সালে আমেরিকা ও তার মিত্ররা মিলে গঠন করে NATO, যার উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করা। উত্তরে, ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন করে Warsaw Pact। এই দুটি জোট বিশ্বের দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়।

  5. গোপনচরবৃত্তি ও প্রচারণা যুদ্ধ:
    এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের CIA এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের KGB পৃথিবীব্যাপী গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত ছিল। এছাড়া রেডিও, সংবাদপত্র ও টিভির মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়।

🕊️ "ঠান্ডা" যুদ্ধ কেন?

যদিও আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ হয়নি, তবে তারা ভিন্ন ভিন্ন দেশে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বা অন্য দেশের মাটিতে যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। যেমন – কোরিয়ান যুদ্ধ (১৯৫০-৫৩), ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫-৭৫), আফগানিস্তান যুদ্ধ (১৯৭৯-৮৯) ইত্যাদি।

🏁 ঠান্ডা যুদ্ধের পরিণতি:

১. স্নায়ুযুদ্ধের পরিবেশ:
বিশ্ববাসী প্রায় ৫০ বছর ধরে এক উত্তপ্ত অথচ অস্ত্রহীন যুদ্ধের আতঙ্কে ছিল।

২. পরমাণু অস্ত্র বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা:
দুই দেশ পরস্পরের চেয়ে বেশি অস্ত্র তৈরি করতে লাগল। ফলে বিশ্বে যুদ্ধ নয়, কিন্তু ভয় অনেক বেড়ে গেল।

৩. তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ক্ষতি:
আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ পরাশক্তিদের প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে রাজনৈতিকভাবে অস্থির হয়ে পড়ে।

৪. সোভিয়েত পতন ও যুদ্ধের অবসান:
১৯৮৫ সালে গর্বাচেভের গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রোইকা নীতির কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন শুরু হয় এবং ১৯৯১ সালে এটি বিলুপ্ত হয়। এইভাবেই ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান ঘটে।

প্রশ্ন ২: ঠান্ডা যুদ্ধের আদর্শগত ভিত্তি আলোচনা করো।

উত্তর:

ঠান্ডা যুদ্ধের (Cold War) মূল ভিত্তি ছিল আদর্শগত দ্বন্দ্ব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে, তার কেন্দ্রে ছিল দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আদর্শ—পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্র/কমিউনিজম। এই আদর্শগত সংঘাতই ঠান্ডা যুদ্ধকে দীর্ঘ, গভীর ও জটিল করে তোলে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মালিকানা, মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করত। তাদের মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানব স্বাধীনতার জন্য রাষ্ট্রের ভূমিকা সীমিত হওয়া উচিত। বিপরীতে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানা, পরিকল্পিত অর্থনীতি এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করত। তারা বিশ্বাস করত যে শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের মাধ্যমেই প্রকৃত সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এই দুই আদর্শ পরস্পরকে কেবল ভিন্ন নয়, বরং শত্রু আদর্শ হিসেবে দেখত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করত কমিউনিজম ব্যক্তিস্বাধীনতা ধ্বংস করে এবং বিশ্বে স্বৈরতন্ত্র ছড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের দৃষ্টিতে পুঁজিবাদ ছিল শোষণমূলক ব্যবস্থা, যেখানে ধনী শ্রেণি গরিব শ্রেণিকে শোষণ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত, তখন এই আদর্শগত সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপে মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়, যার মাধ্যমে তারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে চেয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন একে “অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ” বলে আখ্যা দেয় এবং পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে।

এই আদর্শগত দ্বন্দ্ব কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষা, সাহিত্য, সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া—সব ক্ষেত্রেই আদর্শিক প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ‘গণতন্ত্রের রক্ষক’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরত, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেকে ‘শ্রমজীবী মানুষের মুক্তিদাতা’ হিসেবে প্রচার করত।

পরমাণু অস্ত্রের উপস্থিতিও এই আদর্শগত সংঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। উভয় পক্ষই বিশ্বাস করত, আদর্শগত পরাজয় মানেই রাষ্ট্রীয় পরাজয়। তাই তারা সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও আদর্শগত লড়াই থেকে কখনো পিছপা হয়নি।

সুতরাং বলা যায়, ঠান্ডা যুদ্ধ মূলত ছিল অস্ত্রবিহীন কিন্তু তীব্র আদর্শিক যুদ্ধ, যেখানে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র একে অপরকে পরাস্ত করার জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব মাধ্যম ব্যবহার করেছিল।

প্রশ্ন ৩: মার্শাল পরিকল্পনা কী এবং ঠান্ডা যুদ্ধে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan) ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত এক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা। এটি ১৯৪৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শালের নামানুসারে প্রণীত হয়। তবে এই পরিকল্পনা কেবল অর্থনৈতিক ছিল না; এটি ছিল ঠান্ডা যুদ্ধের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আদর্শিক অস্ত্র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ইউরোপের শিল্প, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। খাদ্য সংকট, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি ইউরোপকে গ্রাস করে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের ১৬টি দেশকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দেয় মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে।

এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল—

  1. ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন

  2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা

  3. কমিউনিজমের প্রসার রোধ করা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছিল যে দারিদ্র্য ও অস্থিরতা কমিউনিজমের বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে তারা সমাজতান্ত্রিক প্রভাব ঠেকাতে চেয়েছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়ন এই পরিকল্পনাকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করে। তারা একে মার্কিন অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ বলে অভিহিত করে এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে এই সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করে। এর ফলে ইউরোপ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—পশ্চিম ইউরোপ পুঁজিবাদী এবং পূর্ব ইউরোপ সমাজতান্ত্রিক।

মার্শাল পরিকল্পনার ফলে পশ্চিম ইউরোপ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করে। শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বেকারত্ব কমে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এর ফলস্বরূপ, পশ্চিম ইউরোপে কমিউনিস্ট দলগুলোর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। ফলে মার্শাল পরিকল্পনা ঠান্ডা যুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রশ্ন ৪: ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তির গঠন ঠান্ডা যুদ্ধকে কীভাবে তীব্রতর করেছিল?

উত্তর:

ন্যাটো (NATO) ও ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact) ছিল ঠান্ডা যুদ্ধের সময় গঠিত দুটি বিপরীত সামরিক জোট, যা বিশ্বকে কার্যত দুইটি সামরিক শিবিরে বিভক্ত করে দেয়। এই জোটগুলোর গঠন ঠান্ডা যুদ্ধকে আরও সংঘাতপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।

১৯৪৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো গঠিত হয়। এর সদস্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে পশ্চিম ইউরোপকে রক্ষা করা।

এর জবাবে, ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয় ওয়ারশ চুক্তি। এটি ছিল ন্যাটোর বিরুদ্ধে সোভিয়েত সামরিক জোট।

এই দুটি জোটের ফলে—

  • বিশ্বে সামরিক মেরুকরণ ঘটে

  • অস্ত্র প্রতিযোগিতা তীব্র হয়

  • পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ে

ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তির দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ না করলেও একে অপরকে ঘিরে ভয়, সন্দেহ ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে। সামান্য ঘটনাও বড় সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করত।

এইভাবে বলা যায়, ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তির গঠন ঠান্ডা যুদ্ধকে কেবল দীর্ঘই করেনি, বরং বিশ্বকে স্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল।

To get chapter wise all suggestion click here

Post a Comment

0 Comments