সমসাময়িক বিশ্বে নিরাপত্তা | দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান নোটস
প্রশ্ন: “নিরাপত্তা” বলতে কী বোঝায়? উত্তর: নিরাপত্তা হলো এমন গুরুতর হুমকির অনুপস্থিতি, যা ব্যক্তি/রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে।
প্রশ্ন: নিরাপত্তার “মূল মূল্যবোধ” বলতে কী বোঝায়? উত্তর: সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, নাগরিকের জীবন-জীবিকা ও মর্যাদা—যেগুলো রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশ্ন: নিরাপত্তা ধারণা কেন বদলায়? উত্তর: বিশ্ব-পরিস্থিতি, প্রযুক্তি, হুমকির ধরন ও সমাজের অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হওয়ায় নিরাপত্তার ধারণাও পরিবর্তিত হয়।
প্রশ্ন: নিরাপত্তার প্রধান দুই ধরনের ধারণা কী? উত্তর: ঐতিহ্যবাহী (Traditional) এবং অপ্রচলিত/অ-ঐতিহ্যবাহী (Non-traditional)।
প্রশ্ন: ঐতিহ্যবাহী বহিরাগত নিরাপত্তা কিসে জোর দেয়? উত্তর: মূলত সামরিক হুমকি থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সীমান্ত রক্ষায়।
প্রশ্ন: যুদ্ধের হুমকিতে সরকারের তিনটি মৌলিক বিকল্প কী? উত্তর: আত্মসমর্পণ (Surrender), প্রতিরোধ/বিরত রাখা (Deterrence), এবং আত্মরক্ষা (Defence)।
প্রশ্ন: Deterrence বা প্রতিরোধ বলতে কী বোঝায়? উত্তর: প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করলে বড় ক্ষতি হবে—এই বার্তা দিয়ে আক্রমণ থেকে বিরত রাখা।
প্রশ্ন: Defence বা আত্মরক্ষা কী? উত্তর: আক্রমণ হলে সামরিক/কৌশলগতভাবে প্রতিরোধ করে দেশকে রক্ষা করা।
প্রশ্ন: ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা নীতির প্রধান লক্ষ্য কী? উত্তর: যুদ্ধ প্রতিরোধ, যুদ্ধ সীমিত করা বা যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা।
প্রশ্ন: ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of Power) কী? উত্তর: প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শক্তি অতিরিক্ত বেড়ে গেলে জোট/সক্ষমতা বাড়িয়ে ভারসাম্য রাখা—যাতে আক্রমণ কমে।
প্রশ্ন: জোট গঠন (Alliance) কেন করা হয়? উত্তর: আক্রমণ ঠেকাতে সামরিক সমন্বয় ও যৌথ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে।
প্রশ্ন: জোট স্থায়ী নাও হতে পারে কেন? উত্তর: জাতীয় স্বার্থ বদলালে জোটের লক্ষ্য ও অংশীদারও পরিবর্তিত হয়।
প্রশ্ন: বিশ্ব রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব নেই—এর মানে কী? উত্তর: একক বিশ্ব-সরকার নেই; তাই প্রতিটি দেশকে নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করতে হয়।
প্রশ্ন: জাতিসংঘের ক্ষমতা সীমিত কেন? উত্তর: জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের সৃষ্টি; সদস্যরা সমর্থন না দিলে তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন।
প্রশ্ন: ঐতিহ্যবাহী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কী? উত্তর: দেশের ভিতরে শান্তি-শৃঙ্খলা, আইন-শাসন, বিদ্রোহ-সন্ত্রাস দমন—যা নিরাপত্তার ভিত্তি।
প্রশ্ন: অভ্যন্তরীণ সহিংসতা থাকলে দেশ “নিরাপদ” কেন নয়? উত্তর: সীমান্তের ভিতরে অস্থিরতা থাকলে নাগরিক জীবন, সম্পদ ও রাষ্ট্রক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: নব-স্বাধীন দেশগুলোর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ কী ছিল? উত্তর: সীমান্তবিরোধ/যুদ্ধের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদ, বিদ্রোহ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত।
প্রশ্ন: শীতল যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বের ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল? উত্তর: বহু সংঘাত/যুদ্ধ প্রক্সি-যুদ্ধ আকারে এশিয়া-আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ? উত্তর: যুদ্ধ সীমিত করা, গণহত্যা প্রতিরোধ, এবং শান্তি বজায় রাখতে দেশগুলোর সহযোগিতা দরকার।
প্রশ্ন: যুদ্ধের নৈতিক সীমা (ethical limits) বলতে কী বোঝায়? উত্তর: অসামরিক/নিরস্ত্রদের ক্ষতি না করা, অনুপাত বজায় রাখা, এবং সব বিকল্প ব্যর্থ হলে শেষ উপায় হিসেবে বলপ্রয়োগ।
প্রশ্ন: নিরস্ত্রীকরণ (Disarmament) কী? উত্তর: নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র সম্পূর্ণ পরিত্যাগ/ধ্বংস করে দেওয়া।
প্রশ্ন: অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ (Arms Control) কী? উত্তর: অস্ত্র উৎপাদন, সংগ্রহ বা উন্নয়নের উপর সীমা/নিয়ম আরোপ করা।
প্রশ্ন: আত্মবিশ্বাস-নির্মাণ (Confidence Building) কী? উত্তর: তথ্য আদান-প্রদান, স্বচ্ছতা, যোগাযোগ বাড়িয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাত কমানো।
প্রশ্ন: অপ্রচলিত নিরাপত্তা ধারণা কীভাবে আলাদা? উত্তর: শুধু সামরিক হুমকি নয়—ক্ষুধা, রোগ, দারিদ্র্য, দুর্যোগ, সন্ত্রাসবাদসহ বিস্তৃত হুমকিকে নিরাপত্তা সমস্যা ধরে।
প্রশ্ন: মানব নিরাপত্তা (Human Security) কী? উত্তর: রাষ্ট্রের বদলে মানুষের জীবন, জীবিকা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে নিরাপত্তার কেন্দ্র হিসেবে দেখা।
0 Comments