New Updates

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

🌍 TBSE Political Science Chapter 6 – International Organization (2026): Important Topics

 


অধ্যায় 6 আন্তর্জাতিক সংস্থা Important Topics

2 marks question and answer

  1. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে কী বোঝায়?
    উত্তর: আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো একাধিক রাষ্ট্রের পারস্পরিক চুক্তি/সনদের ভিত্তিতে গঠিত প্রতিষ্ঠান, যা শান্তি-নিরাপত্তা, উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, মানবাধিকার ইত্যাদি বৈশ্বিক সমস্যায় সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধন করে। যেমন—জাতিসংঘ (UN), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)।

  2. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংস্থা কেন প্রয়োজন?
    উত্তর: আজকের বিশ্ব আন্তঃনির্ভরশীল। যুদ্ধ, জলবায়ু, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, মহামারী, শরণার্থী সংকট—এগুলো একক রাষ্ট্র একা সমাধান করতে পারে না। আন্তর্জাতিক সংস্থা নিয়ম-কানুন, আলোচনার মঞ্চ, সাহায্য ও শান্তিরক্ষা উদ্যোগ দিয়ে সমস্যা মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলিকে একসাথে কাজ করতে সাহায্য করে।

  3. প্রশ্ন: জাতিসংঘের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
    উত্তর: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি (অর্থনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি-মানবাধিকার ক্ষেত্রে), এবং বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে সমন্বয়কারী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা।

  4. প্রশ্ন: জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গগুলো কী কী এবং তাদের কাজ সংক্ষেপে বলুন।
    উত্তর: (i) সাধারণ পরিষদ—বিতর্ক, নীতি-আলোচনা ও সুপারিশ। (ii) নিরাপত্তা পরিষদ—শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা। (iii) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ—উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে সমন্বয়। (iv) সচিবালয়—প্রশাসন ও বাস্তবায়ন। (v) আন্তর্জাতিক বিচার আদালত—রাষ্ট্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তি। (vi) ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল—বর্তমানে কার্যত নিষ্ক্রিয়/স্থগিত।

  5. প্রশ্ন: সাধারণ পরিষদ (General Assembly) কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তর: এখানে সব সদস্য রাষ্ট্রের সমান ভোটাধিকার আছে। বৈশ্বিক সমস্যায় আলোচনা হয়, বাজেট অনুমোদন, সদস্যপদ গ্রহণ, বিভিন্ন সংস্থা/কাউন্সিল গঠন, এবং শান্তি-উন্নয়ন বিষয়ে নীতি-প্রস্তাব গ্রহণ—এসব কারণে সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল মঞ্চ।

  6. প্রশ্ন: নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) কী এবং এর প্রধান কাজ কী?
    উত্তর: নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী প্রধান অঙ্গ। এটি সংঘাত তদন্ত, শান্তিপূর্ণ সমাধান সুপারিশ, নিষেধাজ্ঞা আরোপ, শান্তিরক্ষা মিশন অনুমোদন, প্রয়োজন হলে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমোদন দিতে পারে।

  7. প্রশ্ন: নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য কীভাবে গঠিত?
    উত্তর: স্থায়ী সদস্য ৫টি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন। অস্থায়ী সদস্য সাধারণত ১০টি (মেয়াদ ২ বছর), ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ নির্বাচিত করে।

  8. প্রশ্ন: ভেটো ক্ষমতা কী এবং এটি কেন “নেতিবাচক ক্ষমতা” বলা হয়?
    উত্তর: ভেটো হলো স্থায়ী সদস্যদের এমন ক্ষমতা যার মাধ্যমে তারা নিরাপত্তা পরিষদের কোনো substantive প্রস্তাব একাই আটকে দিতে পারে। এটি “নেতিবাচক” কারণ কোনো প্রস্তাব পাস করানোর বদলে প্রস্তাব আটকে দেওয়ার ক্ষমতা হিসেবে কাজ করে।

  9. প্রশ্ন: ভেটো ক্ষমতা কারা ব্যবহার করতে পারে?
    উত্তর: কেবলমাত্র নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র (P5) ভেটো ব্যবহার করতে পারে। মহাসচিব বা সাধারণ সদস্য রাষ্ট্র এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে না।

  10. প্রশ্ন: ভেটো ব্যবস্থার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি লিখুন।
    উত্তর: পক্ষে—বড় শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়; তাদের সম্মতি ছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন, তাই সংঘাত কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিপক্ষে—গণতান্ত্রিক নয়; কয়েকটি রাষ্ট্র অতিরিক্ত ক্ষমতাবান; ন্যায্যতা ও প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়; গুরুত্বপূর্ণ সংকটে সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে।

  11. প্রশ্ন: জাতিসংঘের সচিবালয় ও মহাসচিবের ভূমিকা কী?
    উত্তর: সচিবালয় জাতিসংঘের প্রশাসনিক ইঞ্জিন—প্রতিবেদন প্রস্তুত, বৈঠক আয়োজন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও তথ্য সংগ্রহ করে। মহাসচিব কূটনৈতিক উদ্যোগ নেন, শান্তি আলোচনা সহজ করেন, প্রশাসন পরিচালনা করেন এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন।

  12. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) কী কাজ করে?
    উত্তর: এটি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং জাতিসংঘের অঙ্গগুলিকে আইনি পরামর্শ (advisory opinion) দেয়। তবে এটি সাধারণত রাষ্ট্রের সম্মতির ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করে।

  13. প্রশ্ন: বিশেষায়িত সংস্থা বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দিন।
    উত্তর: জাতিসংঘের সাথে চুক্তিবদ্ধ স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করে। উদাহরণ—WHO (স্বাস্থ্য), UNESCO (শিক্ষা-সংস্কৃতি), IMF (আর্থিক স্থিতি), World Bank (উন্নয়ন ঋণ/সহায়তা)।

  14. প্রশ্ন: WHO-এর কাজ কী?
    উত্তর: বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ, টিকা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য মানদণ্ড তৈরি, জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা, এবং মহামারী মোকাবেলায় দেশগুলোর সমন্বয়—এসব WHO-এর প্রধান কাজ।

  15. প্রশ্ন: IMF-এর ভূমিকা কী?
    উত্তর: বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে দেশকে ঋণ সহায়তা, নীতিগত পরামর্শ, আর্থিক নজরদারি (surveillance) এবং মুদ্রা-অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

  16. প্রশ্ন: WTO কী এবং এর উদ্দেশ্য কী?
    উত্তর: WTO আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন পরিচালনা করে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্য সহজ করে, এবং বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো দেয়।

  17. প্রশ্ন: UNHCR কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তর: যুদ্ধ/দমন-পীড়ন/সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের আশ্রয়, সুরক্ষা, খাদ্য-চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন/পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে—মানবিক সংকটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  18. প্রশ্ন: UN Peacekeeping বা শান্তিরক্ষা কী?
    উত্তর: জাতিসংঘ অনুমোদিত শান্তিরক্ষী বাহিনী সংঘাত-পরবর্তী অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি তদারকি, বেসামরিক সুরক্ষা, নির্বাচন সহায়তা, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও স্থিতিশীলতা আনতে কাজ করে; সাধারণত সদস্য রাষ্ট্রের সেনা/পুলিশ এতে অংশ নেয়।

  19. প্রশ্ন: জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজন কেন?
    উত্তর: বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শক্তি-সমীকরণ প্রতিফলিত করে; উন্নয়নশীল বিশ্ব/আফ্রিকা/লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব কম; ভেটো ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত আটকে যায়; ফলে কার্যকারিতা ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সংস্কার প্রয়োজন।

  20. প্রশ্ন: ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ দাবির প্রধান যুক্তিগুলি কী?
    উত্তর: (i) বিশাল জনসংখ্যা ও বড় গণতন্ত্র, (ii) দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতি, (iii) জাতিসংঘ কার্যক্রম ও শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ অবদান, (iv) বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর—এসব কারণে ভারত স্থায়ী সদস্যপদের উপযুক্ত দাবি তোলে।

 
4 marks question & answer
  1. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংস্থা কী এবং কেন গঠিত হয়?
    উত্তর: আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো একাধিক রাষ্ট্রের সমঝোতায় গঠিত প্রতিষ্ঠান, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো যৌথ স্বার্থে নিয়ম-কানুন তৈরি করে, আলোচনা করে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করে। এগুলি যুদ্ধ-সংঘাত কমানো, শান্তি বজায় রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, শরণার্থী সুরক্ষা, বাণিজ্য-অর্থনীতিতে ন্যায়সঙ্গত নিয়ম প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে। বিশ্বায়ন ও আন্তঃনির্ভরশীলতার যুগে একক রাষ্ট্র অনেক সমস্যার একা সমাধান করতে পারে না—তাই আন্তর্জাতিক সংস্থা অপরিহার্য।

  2. প্রশ্ন: জাতিসংঘ (UNO) কেন “বিশ্ব সংস্থা” হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তর: জাতিসংঘ বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বৃহৎ ও সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রায় সব স্বাধীন রাষ্ট্র সদস্য। এটি (ক) আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, (খ) রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন, (গ) অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা, (ঘ) মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা উন্নীত করা—এই চারটি দিককে কেন্দ্র করে কাজ করে। জাতিসংঘ আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত কমাতে সাহায্য করে এবং সংকটকালে শান্তিরক্ষা, ত্রাণ, স্বাস্থ্য ও শরণার্থী সহায়তা দেয়।

  3. প্রশ্ন: জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গগুলি কী এবং তাদের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
    উত্তর: জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গগুলোর মধ্যে সাধারণ পরিষদ (General Assembly), নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council), অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC), সচিবালয় (Secretariat), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) উল্লেখযোগ্য। সাধারণ পরিষদে সব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব ও আলোচনা হয়। নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি-নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব পালন করে। ECOSOC উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ায়। সচিবালয় প্রশাসন ও সমন্বয় পরিচালনা করে। ICJ রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করে।

  4. প্রশ্ন: সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
    উত্তর: সাধারণ পরিষদে সকল সদস্য রাষ্ট্রের এক ভোট; এটি বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা, সুপারিশ, বাজেট অনুমোদন ইত্যাদি করে, কিন্তু বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত সুপারিশমূলক। নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান; এর কিছু সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক হতে পারে (বিশেষত অধ্যায় VII অনুযায়ী)। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য থাকে; স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা আছে—এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

  5. প্রশ্ন: ভেটো ক্ষমতা কী এবং এটি কেন বিতর্কিত?
    উত্তর: ভেটো হলো নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন) যে কোনো প্রস্তাব আটকে দেওয়ার “নেতিবাচক ক্ষমতা”। এটি বিতর্কিত কারণ এক দেশের ভেটো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর মতামতকে থামিয়ে দিতে পারে, ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব কমে যায় এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত আটকে দেয়। তবে সমর্থকরা বলেন—পরাশক্তিদের সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে এই বিশেষাধিকার রাখা হয়েছিল।

  6. প্রশ্ন: নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজগুলো ব্যাখ্যা করো।
    উত্তর: নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। এটি (ক) বিরোধ তদন্ত করতে পারে, (খ) শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির পদ্ধতি সুপারিশ করতে পারে, (গ) যুদ্ধ থামাতে যুদ্ধবিরতি/শান্তি চুক্তির আহ্বান জানাতে পারে, (ঘ) অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, (ঙ) চরম ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করতে পারে, (চ) শান্তিরক্ষা মিশন অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, (ছ) মহাসচিব নিয়োগে সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ করে।

  7. প্রশ্ন: জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা কী? দু’টি উদাহরণসহ লেখো।
    উত্তর: বিশেষায়িত সংস্থা হলো জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত স্বায়ত্তশাসিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্র (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম, অর্থনীতি ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করে। উদাহরণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)—রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যনীতি, টিকাদান ইত্যাদিতে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)—বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা, ঋণ, নীতিপরামর্শ ইত্যাদিতে ভূমিকা রাখে। আরও উদাহরণ: UNESCO, ILO ইত্যাদি।

  8. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) কীভাবে আন্তর্জাতিক শান্তিতে অবদান রাখে?
    উত্তর: ICJ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমান্ত, চুক্তি, ক্ষতিপূরণ, কূটনৈতিক অধিকার ইত্যাদি বিরোধ আইনি পথে মীমাংসা করে। যুদ্ধের পরিবর্তে আইনগত নিষ্পত্তি উৎসাহিত করে বলে শান্তি রক্ষায় সহায়তা হয়। আদালত পরামর্শমূলক মতামতও দিতে পারে যা আন্তর্জাতিক আইন ব্যাখ্যায় সাহায্য করে। তবে এর কার্যকারিতা অনেকাংশে রাষ্ট্রগুলোর সম্মতি ও রায় মানার ওপর নির্ভর করে।

  9. প্রশ্ন: জাতিসংঘ সংস্কার বলতে কী বোঝায় এবং কেন তা প্রয়োজন?
    উত্তর: জাতিসংঘ সংস্কার মানে কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব ও কার্যকারিতা আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই করা। প্রয়োজন কারণ আজকের বিশ্বে নতুন শক্তির উত্থান, আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব, উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারী, জলবায়ু সংকট ইত্যাদি বেড়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষমতা কাঠামোর প্রতিফলন; তাই ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব ও দক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য সংস্কারের দাবি জোরালো।

  10. প্রশ্ন: নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ দাবির পক্ষে যুক্তি দাও।
    উত্তর: ভারতের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা যায়—(ক) ভারত বিশ্বের বৃহৎ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে, (খ) বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে, (গ) ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, (ঘ) জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, (ঙ) উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ ও দক্ষিণ-দেশগুলোর কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে বৃহত্তর বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব আনতে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ যৌক্তিক বলে যুক্তি দেওয়া যায়।

To get chapter wise all suggestion click here
 

Post a Comment

0 Comments