New Updates

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

📚 TBSE HS History 2026 – Chapter-Wise Important Suggestions

 

📚 TBSE HS History 2026 – Chapter-Wise Important Suggestions

Based on previous year trends, expert inputs, and analysis of TBSE question papers, here’s a chapter-wise suggestion for 2026:

দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন

খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর ধরণের প্রশ্ন

  1. হরপ্পা সভ্যতার অন্য নাম কী?
    উত্তর: সিন্ধু সভ্যতা।
  2. হরপ্পা সভ্যতাকে ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা
    বলা হয় কেন? উত্তর: কারণ ব্রোঞ্জ ব্যাপকভাবে সরঞ্জাম, অলঙ্কার এবং জিনিসপত্রের জন্য ব্যবহৃত হত।
  3. হরপ্পা সভ্যতা প্রথম কে আবিষ্কার করেন?
    উত্তর: দয়া রাম সাহনি
  4. হরপ্পা প্রথম কোন সালে আবিষ্কৃত হয়?
    উত্তর: ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ।
  5. স্যার জন মার্শালের মতে, হরপ্পা সভ্যতা কত বছরের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল?
    উত্তর: ৩২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে।
  6. বর্তমান পাকিস্তানে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরপ্পা শহরের নাম লেখ।
    উত্তর: মহেঞ্জোদারো এবং চানহুদারো ।
  7. ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরপ্পা স্থানের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: কালীবঙ্গন এবং লোথাল।
  8. কোন হরপ্পা শহর তার ডকইয়ার্ডের জন্য বিখ্যাত?
    উত্তর: লোথাল।
  9. হরপ্পাবাসীরা কোন ধরণের নগর পরিকল্পনা অনুসরণ করত?
    উত্তর: গ্রিড প্যাটার্ন নগর পরিকল্পনা।
  10. হরপ্পা সভ্যতার রাস্তাগুলি সাধারণত কীভাবে তৈরি করা হত?
    উত্তর: তারা একে অপরকে সমকোণে কেটে ফেলে।
  11. হরপ্পা ইট তৈরিতে সাধারণত কোন উপাদান ব্যবহার করা হত?
    উত্তর: বেকড ইট।
  12. হরপ্পা শহরগুলিতে কোন ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত ছিল?
    উত্তর: নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
  13. হরপ্পা সমাজে কি বর্ণপ্রথা প্রচলিত ছিল?
    উত্তর: না, বর্ণপ্রথা অনুপস্থিত ছিল।
  14. হরপ্পা জাতির প্রধান পেশা কী ছিল?
    উত্তর: কৃষি।
  15. হরপ্পাবাসীদের গৃহপালিত দুটি প্রাণীর নাম লেখ।
    উত্তর: গরু এবং ভেড়া।
  16. হরপ্পাবাসীরা কোন ধরণের বাণিজ্য করত?
    উত্তর: অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত উভয় ধরণের বাণিজ্য।
  17. হরপ্পা সভ্যতা সম্পর্কে তথ্যের প্রধান উৎস কী ছিল?
    উত্তর: প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস।
  18. হরপ্পা সীল তৈরিতে সাধারণত কোন উপাদান ব্যবহার করা হত?
    উত্তর: স্টিয়েটাইট।
  19. হরপ্পা লিপি কি পাঠোদ্ধার করা হয়নি?
    উত্তর: না, এটি এখনও পাঠোদ্ধার করা হয়নি।
  20. হরপ্পা লিপিতে কয়টি চিহ্ন পাওয়া যায়?
    উত্তর: প্রায় ৩৭৫-৪০০ চিহ্ন।
  21. কোন শহরটি কেবলমাত্র হস্তশিল্প উৎপাদনের জন্য নিবেদিত ছিল?
    উত্তর: চানহুদারো ।
  22. মহেঞ্জোদারোর ধর্মীয় স্নানের জন্য ব্যবহৃত
    কাঠামোর নাম কী ? উত্তর: মহাস্নান।
  23. হরপ্পা শহর কোন দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল?
    উত্তর: দুর্গ এবং নিম্ন শহর।
  24. হরপ্পা সভ্যতার পতন কোন বছর শুরু হয়েছিল?
    উত্তর: প্রায় ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
  25. হরপ্পা সভ্যতার পতনের একটি কারণ উল্লেখ করুন।
    উত্তর: নদীর গতিপথ পরিবর্তন / বন্যা / ভূমিকম্প / আক্রমণ (যে কোনও একটি)।

২ এবং ৩ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর

১. হরপ্পা সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতাও বলা হয় কেন?

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলা হয় কারণ এর বেশিরভাগ প্রধান বসতি সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলির তীরে গড়ে উঠেছিল। মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি সিন্ধু নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ছিল। যেহেতু নদী ব্যবস্থা কৃষি, বাণিজ্য এবং বসতি স্থাপনের ধরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তাই ঐতিহাসিকরা এই প্রাচীন নগর সংস্কৃতি বর্ণনা করার জন্য "সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা" শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

২. হরপ্পা সভ্যতার আবিষ্কার উল্লেখ করো।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৯২১ সালে হরপ্পায় দয়া রাম সাহনি । এর পরপরই, রাখাল দাস ব্যানার্জির মহেঞ্জোদারোতে খননকাজ থেকে একটি সুপরিকল্পিত প্রাচীন সভ্যতার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে, জন মার্শালের অধীনে ব্যাপক খননকাজ নিশ্চিত করে যে এটি বিশ্বের প্রাচীনতম নগর সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি।

৩. হরপ্পা সভ্যতার কালক্রম সম্পর্কে কোন সমস্যা বিদ্যমান?

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতার সঠিক তারিখ সম্পর্কে কোন পূর্ণাঙ্গ ঐক্যমত্য নেই। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্ন সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন। স্যার জন মার্শাল পরামর্শ দিয়েছেন যে এটি খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ সালের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল, যেখানে আধুনিক ইতিহাসবিদরা সাধারণত এটি ২৬০০ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে নির্ধারণ করেন। বস্তুগত ধ্বংসাবশেষের তারিখ এবং ব্যাখ্যার বিভিন্ন পদ্ধতির কারণে ভিন্নতা দেখা দেয়।

৪. পাকিস্তান ও ভারতে হরপ্পা সভ্যতার প্রধান কেন্দ্রগুলি বর্ণনা করো।

উত্তর:
বর্তমান পাকিস্তানে হরপ্পা সভ্যতার প্রধান কেন্দ্র ছিল মহেঞ্জোদারো এবং চানহুদারো । ভারতে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে কালিবঙ্গন, লোথাল, ধোলাভিরা , বানওয়ালি এবং রাখিগড়ি । এই কেন্দ্রগুলি নগর পরিকল্পনা, স্থাপত্য এবং বস্তুগত সংস্কৃতির মধ্যে মিল দেখায়, যা অঞ্চল জুড়ে উচ্চ মাত্রার সাংস্কৃতিক ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়।

৫. হরপ্পাবাসীদের নগর পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
হরপ্পা শহরগুলি সুপরিকল্পিত ছিল এবং একটি গ্রিড প্যাটার্ন অনুসরণ করেছিল। রাস্তাগুলি প্রশস্ত ছিল এবং একে অপরকে সমকোণে ছেদ করেছিল। শহরগুলিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল - দুর্গ এবং নিম্ন শহর। ঘরগুলি পাকানো ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং সঠিক বায়ুচলাচল ছিল। এই পরিকল্পিত বিন্যাস উন্নত নাগরিক জ্ঞান এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে প্রতিফলিত করে।

৬. হরপ্পা শহরগুলির নিষ্কাশন ব্যবস্থা কীভাবে অনন্য ছিল?

উত্তর:
হরপ্পা শহরগুলির নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত ছিল। প্রতিটি বাড়িতে একটি করে বাথরুম ছিল যা ঢেকে রাখা ড্রেনের সাথে সংযুক্ত ছিল। এই ড্রেনগুলি রাস্তার ধার দিয়ে চলেছিল এবং নিয়মিত পরিদর্শন গর্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হত। এই ব্যবস্থা বৃষ্টির জল এবং বর্জ্যের সঠিক নিষ্কাশন নিশ্চিত করেছিল, যা জনস্বাস্থ্যের প্রতি হরপ্পাবাসীদের উদ্বেগকে তুলে ধরে।

৭. হরপ্পা জাতির সামাজিক জীবন বর্ণনা করো।

উত্তর:
হরপ্পা সমাজ তুলনামূলকভাবে সমতাবাদী ছিল বলে মনে হয়। বর্ণ প্রথার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই । মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে বাস করত এবং নারীরা সম্মানজনক অবস্থান উপভোগ করত বলে মনে হয়। অলঙ্কার, প্রসাধনী এবং মূর্তি থেকে বোঝা যায় যে মানুষ ফ্যাশনের প্রতি অনুরাগী ছিল এবং সামাজিক জীবন ছিল সমৃদ্ধ এবং সুসংগঠিত।

৮. হরপ্পা জাতির প্রধান পেশা কী ছিল?

উত্তর:
কৃষি ছিল হরপ্পাবাসীদের প্রধান পেশা। তারা গম, যব, ধান এবং ডালের মতো ফসল চাষ করত। গরু, ভেড়া, ছাগল এবং মহিষের মতো পশুদের গৃহপালিত করা সাধারণ ছিল। কৃষিকাজের পাশাপাশি, মানুষ কারুশিল্প, ব্যবসা, পুঁতি তৈরি এবং মৃৎশিল্পেও নিযুক্ত ছিল।

৯. হরপ্পা বাণিজ্য সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতার সময় বাণিজ্য বেশ উন্নত ছিল। অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় ধরণের বাণিজ্যই প্রচলিত ছিল। মেসোপটেমিয়া, ওমান এবং বাহরাইনের মতো অঞ্চলের সাথে হরপ্পাবাসীদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। সীলমোহর, ওজন, পুঁতি এবং নৌকার ছবি দূরপাল্লার বাণিজ্য এবং একটি সুনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

১০. হরপ্পা সভ্যতা সম্পর্কে সীল আমাদের কী বলে?

উত্তর:
হরপ্পা সীলমোহরগুলি বেশিরভাগই স্টিয়েটাইট দিয়ে তৈরি হত এবং ব্যবসা ও শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হত। এগুলিতে প্রায়শই প্রাণী, প্রতীক এবং শিলালিপি চিত্রিত করা হত। সীলমোহরগুলি পণ্য চিহ্নিত করতে এবং মালিকানা নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হত। সীলের লিপিটি এখনও অস্পষ্ট, তবে এটি অর্থনীতি, ধর্ম এবং যোগাযোগ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।

১১. হরপ্পাবাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাস বর্ণনা করো।

উত্তর:
হরপ্পাবাসীরা একাধিক দেব-দেবীর পূজা করত। প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, তারা একজন মাতৃদেবী এবং যোগভঙ্গিতে ভগবান শিবের মতো পুরুষ দেবতার পূজা করত। প্রাণী, গাছ এবং সূর্যের মতো প্রাকৃতিক শক্তিরও পূজা করা হত। মহাস্নান এবং অগ্নিবেদীর মতো কাঠামো ধর্মীয় রীতিনীতির ইঙ্গিত দেয়।

১২. হরপ্পা ইতিহাসের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক উৎসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতা সম্পর্কে তথ্যের প্রধান উৎস হল প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস। খননকাজে ঘরবাড়ি, হাতিয়ার, মৃৎশিল্প, অলঙ্কার, সীলমোহর এবং সমাধিস্থলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেহেতু কোনও লিখিত রেকর্ডের পাঠোদ্ধার করা হয়নি, তাই প্রত্নতাত্ত্বিকরা হরপ্পা সভ্যতার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবন পুনর্গঠনের জন্য এই উপকরণগুলি অধ্যয়ন করেন।

১৩. হরপ্পা কারুশিল্প উৎপাদনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল?

উত্তর:
হরপ্পাবাসীরা দক্ষ কারিগর ছিল। তারা পুঁতি, মৃৎশিল্প, অলঙ্কার, সীলমোহর এবং ধাতব জিনিসপত্র তৈরি করত। চানহুদারো ছিল কারুশিল্প উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্র। পুঁতি তৈরিতে খনন, পালিশ এবং পিষে ফেলা জড়িত ছিল। মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পার মতো শহরগুলিও গুরুত্বপূর্ণ কারুশিল্প কেন্দ্র ছিল।

১৪. মহেঞ্জোদারোকে একটি পরিকল্পিত নগর কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করো।

উত্তর:
মহেঞ্জোদারো ছিল সবচেয়ে সুপরিকল্পিত হরপ্পা শহরগুলির মধ্যে একটি। এটি দুর্গ এবং নিম্ন শহরে বিভক্ত ছিল। উঠোনের চারপাশে বাড়িগুলি নির্মিত হত এবং কূপ এবং স্নানাগার ছিল। গ্রেট স্নান এবং গুদামের মতো পাবলিক কাঠামো উন্নত নাগরিক পরিকল্পনা এবং সামাজিক সংগঠনের ইঙ্গিত দেয়।

১৫. হরপ্পা সভ্যতার পতনের কারণ কী ছিল?

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতার পতন শুরু হয়েছিল প্রায় ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, ভূমিকম্প, নদীর স্থানান্তর, বন উজাড় এবং জমির অতিরিক্ত ব্যবহার সহ বেশ কয়েকটি কারণ এর জন্য দায়ী হতে পারে। কিছু ঐতিহাসিক আক্রমণ বা বৃহৎ আকারের ধ্বংসেরও পরামর্শ দেন। প্রায় ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে, সভ্যতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

দীর্ঘ উত্তর ধরণের প্রশ্ন

১. হরপ্পা সভ্যতার আবিষ্কার এবং কালানুক্রম আলোচনা করো।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতা, যা সিন্ধু সভ্যতা নামেও পরিচিত, ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতা। এর আবিষ্কার শুরু হয় ১৯২১ সালে যখন দয়া রাম সাহনি হরপ্পার স্থান খনন করেন। এর পরপরই রাখাল দাস ব্যানার্জি মহেঞ্জোদারো আবিষ্কার করেন এবং জন মার্শালের অধীনে ব্যাপক খননকাজ একটি বিশাল নগর সভ্যতার অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

এর কালানুক্রম সম্পর্কে কোনও সম্পূর্ণ ঐক্যমত্য নেই। স্যার জন মার্শাল এটিকে ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে নির্ধারণ করেছেন, যেখানে আধুনিক ইতিহাসবিদরা সাধারণত পরিপক্ক পর্যায়টিকে ২৬০০ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে রাখেন। বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক পদ্ধতি এবং ব্যাখ্যার কারণে বিভিন্নতা দেখা দেয়। কালানুক্রমিক বিতর্ক সত্ত্বেও, পণ্ডিতরা একমত যে এটি প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে উন্নত ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি।

২. হরপ্পা সভ্যতার ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং প্রধান কেন্দ্রগুলি বর্ণনা করো।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতা বর্তমান পাকিস্তান, উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এর সীমানা আধুনিক জাতীয় সীমানার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পাকিস্তানের প্রধান কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে মহেঞ্জোদারো এবং চানহুদারো , যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে কালিবঙ্গন, লোথাল, ধোলাভিরা , বানাওয়ালি এবং রাখিগড়ি ।

এই বসতিগুলি নদী, উর্বর সমভূমি বা উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত ছিল, যা কৃষি, বাণিজ্য এবং নগর উন্নয়নকে সমর্থন করত। বিস্তৃত ভৌগোলিক বিস্তার দেখায় যে সভ্যতার কার্যকর যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং অঞ্চল জুড়ে প্রশাসনিক সংগঠন ছিল।

৩. হরপ্পা নগর পরিকল্পনার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
হরপ্পা নগর পরিকল্পনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং উন্নত ছিল। শহরগুলি একটি গ্রিড প্যাটার্ন অনুসরণ করত যেখানে রাস্তাগুলি সমকোণে ছেদ করত। শহরগুলিকে দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করা হয়েছিল - দুর্গ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ছিল এবং নিম্ন শহর, যেখানে সাধারণ মানুষ বাস করত।

ঘরগুলি সাধারণত উঠোনের চারপাশে পাকা ইট দিয়ে তৈরি হত, এবং অনেকেরই ব্যক্তিগত কূপ এবং বাথরুম ছিল। রাস্তাঘাট প্রশস্ত, পরিষ্কার এবং সুসংগঠিত ছিল। বিভিন্ন স্থানে এই অভিন্ন পরিকল্পনা শক্তিশালী নাগরিক বোধ এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃত্বকে প্রতিফলিত করে।

৪. হরপ্পা সভ্যতার নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করো।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি ছিল এর অত্যাধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রাস্তার ধার দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢেকে রাখা ড্রেনের সাথে সংযুক্ত একটি বাথরুম ছিল। এই ড্রেনগুলি বেকড ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য পরিদর্শন গর্ত ছিল।

আবাসিক এলাকা থেকে বর্জ্য জল সঠিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হয়েছিল। সমসাময়িক সভ্যতায় এই ধরনের উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা অতুলনীয় ছিল এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি হরপ্পাবাসীদের উদ্বেগের প্রমাণ দেয়।

৫. হরপ্পা সমাজে নারীর সামাজিক জীবন এবং অবস্থান আলোচনা করো।

উত্তর:
হরপ্পা সমাজ তুলনামূলকভাবে সমতাবাদী ছিল বলে মনে হয়। বর্ণ প্রথার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে বসবাস করত, যা সামাজিক সম্প্রীতির ইঙ্গিত দেয়। সম্পদের পার্থক্য ছিল, কিন্তু চরম বৈষম্য দৃশ্যমান নয়।

নারীরা সম্মানজনক মর্যাদা ভোগ করত বলে মনে হয়। নারীদের টেরাকোটার মূর্তি, অলঙ্কার, অলংকার এবং প্রসাধনী তাদের সামাজিক গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। বিশাল প্রাসাদ বা রাজকীয় সমাধির অনুপস্থিতি আরও ইঙ্গিত দেয় যে সমাজে কোনও কঠোর শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্য নেই।

৬. হরপ্পাবাসীদের অর্থনৈতিক জীবন, কৃষি এবং খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:
হরপ্পা অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধ এবং সুসংগঠিত। কৃষি ছিল প্রধান পেশা, উর্বর মাটি এবং কূপ ও খালের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা দ্বারা সমর্থিত। গম, যব, ধান, বাজরা এবং ডালের মতো ফসল চাষ করা হত। চাষের জন্য ষাঁড় ব্যবহার করা হত এবং কখনও কখনও একাধিক ফসল একসাথে চাষ করা হত।

হরপ্পাবাসীরা উদ্ভিদজাত দ্রব্য, মাছ এবং মাংস সহ বিস্তৃত পরিসরের খাদ্য গ্রহণ করত। গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ এবং শূকরের মতো প্রাণীদের গৃহপালিত করা হত। উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদন নগর জীবন এবং বাণিজ্যকে সমর্থন করত।

৭. হরপ্পা সভ্যতার বাণিজ্য, ওজন এবং সীলমোহর বর্ণনা করো।

উত্তর:
অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় ক্ষেত্রেই বাণিজ্য সুবিন্যস্ত ছিল। হরপ্পাবাসীরা মেসোপটেমিয়া, ওমান এবং বাহরাইনের মতো দূরবর্তী অঞ্চলের সাথে ব্যবসা করত। সীলমোহরযুক্ত নৌকা এবং জাহাজের প্রমাণ সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইঙ্গিত দেয়।

সাধারণত চের্ট দিয়ে তৈরি একটি সুনির্দিষ্ট ওজন ব্যবস্থা, বিনিময় নিয়ন্ত্রিত করত। ছোট ওজনগুলি বাইনারি পদ্ধতি অনুসরণ করত, যখন বড় ওজনগুলি দশমিক পদ্ধতি অনুসরণ করত। পণ্য চিহ্নিত করতে, মালিকানা জানাতে এবং নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে সিল ব্যবহার করা হত। তারা দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগেও ভূমিকা পালন করত।

৮. হরপ্পা জাতির কারুশিল্প ও প্রযুক্তি আলোচনা করো।

উত্তর:
হরপ্পাবাসীরা দক্ষ কারিগর ছিল। তারা মৃৎশিল্প, পুঁতি, অলঙ্কার, সীলমোহর, খেলনা এবং ধাতব জিনিসপত্র তৈরি করত। ব্রোঞ্জের ব্যাপক ব্যবহার ছিল, যা এই সভ্যতাকে ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা উপাধি দিয়েছিল।

চানহুদারো ছিল হস্তশিল্প উৎপাদনের একটি বিশেষ কেন্দ্র, বিশেষ করে পুঁতি তৈরি এবং ধাতু-শিল্প। নাগেশ্বর এবং বালাকোট খোলস তৈরিতে বিশেষজ্ঞ ছিল। ড্রিলিং, পলিশিং এবং গ্রাইন্ডিংয়ের মতো কৌশলগুলি প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শ্রম বিভাজনকে প্রতিফলিত করে।

৯. হরপ্পাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিনীতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
হরপ্পা ধর্ম প্রকৃতি-কেন্দ্রিক এবং বহুঈশ্বরবাদী বলে মনে হয়। প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, যোগব্যায়ামে দেবী মাতৃ এবং শিবের মতো পুরুষ দেবতার পূজা করা হত। প্রাণী, গাছ এবং সূর্যেরও পূজা করা হত।

গ্রেট স্নান এবং অগ্নিবেদীর মতো কাঠামো ধর্মীয় রীতিনীতির ইঙ্গিত দেয়। তবে, অব্যক্ত লিপির কারণে, ব্যাখ্যাগুলি অনুমানমূলক রয়ে গেছে এবং ধর্মীয় জীবন মূলত বস্তুগত ধ্বংসাবশেষ থেকে পুনর্গঠিত হয়।

১০. হরপ্পা সভ্যতার পতন ও সমাপ্তি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতার পতন শুরু হয় প্রায় ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে অনেক শহর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে সভ্যতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, ভূমিকম্প, নদীর স্থানান্তর বা শুকিয়ে যাওয়া, বন উজাড় এবং জমির অতিরিক্ত ব্যবহার সহ বেশ কয়েকটি কারণ এতে অবদান রাখতে পারে।

কিছু পণ্ডিত আক্রমণ বা বৃহৎ আকারের ধ্বংসকে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে মনে করেন। পতনের পর, শেষ হরপ্পা বা উত্তরসূরী সংস্কৃতি নামে পরিচিত একটি গ্রামীণ জীবনধারার উদ্ভব ঘটে, যা ভারতীয় ইতিহাসের একটি নতুন পর্যায়ের উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

To get chapterwise all suggestion click here

chapter 2 suggestion 

chapter 4 suggestion

chapter 6 suggestion

chapter 7 suggestion

chapter 11 suggestion

chapter 13 suggestion

Post a Comment

0 Comments