অধ্যায় ১১: বিদ্রোহী ও রাজ: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ এবং এর প্রতিনিধিত্ব
- ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ কোন সালে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: ১৮৫৭ - ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ প্রথম কোন স্থান থেকে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: মিরাট - বিদ্রোহের নেতা হিসেবে ঘোষিত মুঘল সম্রাট কাকে ছিলেন?
উত্তর: বাহাদুর শাহ জাফর - ব্রিটিশ অফিসারদের উপর আক্রমণের জন্য ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ কোন সিপাহিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: মঙ্গল পান্ডে - কোন রাইফেল কার্তুজের সমস্যা বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ হয়ে দাঁড়ায়?
উত্তর: এনফিল্ড রাইফেলের গ্রীসযুক্ত কার্তুজ - কার্তুজে কোন প্রাণীর চর্বি ব্যবহার করা হয়েছে বলে গুজব ছিল?
উত্তর: গরু এবং শূকরের চর্বি - কোন গভর্নর-জেনারেল বাহাদুর শাহ জাফরকে শেষ মুঘল সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: লর্ড ক্যানিং - কোন সালে ব্রিটিশরা আওধ দখল করে?
উত্তর: ১৮৫৬ - ব্রিটিশদের দ্বারা নির্বাসিত আওধের নবাব কে ছিলেন?
উত্তর: নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ - সংযুক্তির পর আওধে কী কর ব্যবস্থা চালু হয়েছিল?
উত্তর: সারসংক্ষেপ নিষ্পত্তি - কোন ব্রিটিশ আইন কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ক্রাউনের কাছে?
উত্তর: ভারত সরকার আইন, ১৮৫৮ - ১৮৫৮ সালের পর গভর্নর-জেনারেলকে কোন নতুন উপাধি দেওয়া হয়?
উত্তর: ভাইসরয় - কোন শব্দটির অর্থ সৈন্যদের বিদ্রোহ?
উত্তর: বিদ্রোহ। - শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের গণঅভ্যুত্থানকে কোন শব্দটি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: বিদ্রোহ - মিরাটের পর কোন শহর বিদ্রোহের প্রতীকী কেন্দ্র হয়ে ওঠে?
উত্তর: দিল্লি - শ্বেতাঙ্গ বিদেশী শাসকদের জন্য কোন ফারসি শব্দ ব্যবহার করা হত?
উত্তর: ফিরাঙ্গি - ' জিল্লাত -ই-দিল্লি' কী ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশদের পুনর্দখলের পর দিল্লির অপমান - কোন ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্রোহীদের উৎসাহিত করেছিল যে ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হবে?
উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের শতবর্ষ - বিদ্রোহের আখ্যানের প্রেক্ষাপটে '
জিয়ারাত ' কী ছিল ? উত্তর: সমাধিসৌধে তীর্থযাত্রা (পরবর্তী লেখাগুলিতে প্রতীকীভাবে ব্যবহৃত) - কে আওধকে 'মুখে পড়ে যাবে এমন চেরি' হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন?
উত্তর: লর্ড ডালহৌসি - দিল্লির পতনের পরেও কোন স্থানটি তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল?
উত্তর: অবধ - মুঘল সম্রাটের নির্বাসনের স্থানের নাম কী ছিল?
উত্তর: রেঙ্গুন - কোন ব্রিটিশ চিত্রকর্মটি লখনউতে ব্রিটিশ বিজয়কে মহিমান্বিত করেছিল?
উত্তর: লখনউয়ের ত্রাণ - বিদ্রোহীদের দ্বারা আক্রান্ত ব্রিটিশ অস্ত্র ভাণ্ডারগুলির জন্য কোন শব্দটি ব্যবহৃত হত?
উত্তর: অস্ত্রের ঘণ্টা - জাতীয়তাবাদী ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে কীভাবে স্মরণ করা হয়?
উত্তর: প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ
১) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর:
তিনটি প্রধান কারণ ছিল-
- রাজনৈতিক কারণ: নবাব এবং রাজারা ক্ষমতা হারান; মুঘল রাজবংশের অবসানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল (মুদ্রা অপসারণ, লাল কেল্লা ইস্যু)।
- অর্থনৈতিক কারণ: কৃষক ও জমিদাররা উচ্চ কর এবং কঠোর রাজস্ব আদায়ের সম্মুখীন হয়েছিল।
- সামরিক কারণ: কম বেতন, দুর্বল ভাতা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী নিয়মের কারণে সিপাহিরা অসন্তুষ্ট ছিল (কার্তুজ সমস্যা)।
২) ব্রিটিশরা কেন মুঘল রাজবংশের অবসান ঘটাতে চেয়েছিল? গৃহীত পদক্ষেপগুলি উল্লেখ করুন।
উত্তর:
ব্রিটিশরা মুঘল কর্তৃত্বকে অপসারণ করতে চেয়েছিল কারণ এটি ছিল ভারতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক। গৃহীত পদক্ষেপ—
- কোম্পানির মুদ্রা থেকে মুঘল রাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
- ১৮৪৯: বাহাদুর শাহ জাফরের মৃত্যুর পর, পরিবারকে লাল কেল্লা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
- ১৮৫৬: বাহাদুর শাহ জাফরকে শেষ মুঘল সম্রাট ঘোষণা করা হয়; বংশধরদের রাজপুত্র বলা হবে ।
৩) এনফিল্ড কার্তুজ সমস্যা এবং বিদ্রোহের উপর এর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজগুলিতে
গরু এবং শূকরের চর্বি মেশানো ছিল বলে গুজব ছিল ।
- হিন্দুদের কাছে গরুর চর্বি ছিল আপত্তিকর; মুসলমানদের কাছে শূকরের চর্বি নিষিদ্ধ ছিল।
- সিপাহিরা এই কার্তুজ ব্যবহার করে ড্রিল করতে অস্বীকৃতি জানায়।
- এটি গভীর সন্দেহ তৈরি করেছিল যে ব্রিটিশরা ধর্ম ধ্বংস করতে চেয়েছিল, যার ফলে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছিল।
৪) ১৮৫৭ সালের ১০ মে এবং দিল্লি অভিমুখে যাত্রার ঘটনা বর্ণনা করো।
উত্তর: 1857 সালের
10 মে , সিপাহীরা মিরাটে বিদ্রোহ করে ।
- তারা অফিস আক্রমণ করে, অস্ত্র ও কোষাগার দখল করে।
- তারপর তারা বাহাদুর শাহ জাফরের সমর্থন চাইতে দিল্লির দিকে যাত্রা করে ।
- দিল্লিতে, রেজিমেন্টগুলি তাদের সাথে যোগ দেয়, ব্রিটিশ অফিসারদের হত্যা করা হয় এবং সম্রাটকে বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করা হয়।
৫) "বিদ্রোহ" কীভাবে "বিদ্রোহে" পরিণত হয়েছিল?
উত্তর:
প্রাথমিকভাবে এটি ছিল সামরিক অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি সিপাহি বিদ্রোহ । এটি একটি বৃহত্তর বিদ্রোহে পরিণত হয় যখন-
- শহরবাসী এবং গ্রামবাসীরা বিদ্রোহে যোগ দেয়।
- বিদ্রোহীরা ব্রিটিশ ক্ষমতার প্রতীকগুলিতে আক্রমণ করেছিল: কারাগার, কোষাগার, টেলিগ্রাফ অফিস, রেকর্ড রুম।
- স্থানীয় নেতা, জমিদার এবং প্রধানরা নেতৃত্ব এবং সমর্থন প্রদান করেছিলেন, যা এটিকে একটি গণআন্দোলনে পরিণত করেছিল।
৬) বিদ্রোহী/সিপাহিদের ব্যবহৃত যোগাযোগের তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করো।
উত্তর:
তিনটি পদ্ধতি ছিল-
- এক রেজিমেন্ট/স্টেশন থেকে অন্য রেজিমেন্টে দূতদের স্থানান্তর।
- রেজিমেন্টের পঞ্চায়েত যেখানে স্থানীয় অফিসাররা মিলিত হয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন।
- ঘোষণা/ ইশতাহার, যাতে জনগণকে যোগদান এবং বিদেশী শাসন উৎখাতের আহ্বান জানানো হয়।
৭) ১৮৫৭ সালে গুজব এবং ভবিষ্যদ্বাণীর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
গুজব এবং ভবিষ্যদ্বাণী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভয় এবং ঐক্য তৈরি করেছিল।
- গরু/শুয়োরের চর্বি এবং হাড়ের ধুলো মিশ্রিত আটায় কার্তুজ তেল দিয়ে ধর্মীয় আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল।
- মিশনারি কার্যক্রম এবং আইনের কারণে মানুষ জোরপূর্বক খ্রিস্টান ধর্মান্তরের আশঙ্কা করছিল।
- ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছিল যে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হবে ১৮৫৭ সালের ২৩ জুন (পলাশীর শতবর্ষ)। এই ঘটনা বিদ্রোহকে মানসিকভাবে উৎসাহিত করেছিল।
৮) কেন আওধ বিদ্রোহের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল?
উত্তর:
আওধ একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে কারণ-
- ১৮৫৬ সালে সংযুক্তির ফলে নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ পদচ্যুত হন এবং আদালত সংস্কৃতির অবসান ঘটে।
- তালুকদারদের উৎখাত , নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের দুর্গ ধ্বংস করা হয়েছিল।
- রাজস্ব অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং অনেক সিপাহী আওধ থেকে এসেছিলেন - তাই সকল শ্রেণীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
৯) বিদ্রোহের প্রধান নেতা কারা ছিলেন? যেকোনো তিনজন এবং তাদের ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তর:
যেকোনো তিনজন নেতা—
- বাহাদুর শাহ জাফর: দিল্লির বিদ্রোহের প্রতীকী নেতা।
- রানী লক্ষ্মীবাঈ: ঝাঁসি রক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন এবং ব্রিটিশদের দখলদারিত্ব প্রতিহত করেছিলেন।
- স্থানীয় নেতারা (যেমন, শাহ মাই / গনু ): কৃষক/উপজাতিদের সংগঠিত করেছিলেন এবং আঞ্চলিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
নেতৃত্ব বিদ্রোহকে সংগঠন এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।
১০) বিদ্রোহীদের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু কী ছিল? কারণগুলি দাও।
উত্তর:
বিদ্রোহীরা আক্রমণ করেছিল—
- সরকারি অফিস: কারাগার, কোষাগার, টেলিগ্রাফ, রেকর্ড রুম
- ব্রিটিশ প্রতীক: বাংলো, অস্ত্রের দোকান
- ব্রিটিশ মিত্র: মহাজন এবং ধনী ব্যক্তিরা (ব্রিটিশদের শোষক এবং সমর্থক হিসেবে দেখা হয়)।
এই আক্রমণগুলির লক্ষ্য ছিল ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব এবং নিপীড়ক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা।
১১) ব্রিটিশরা কীভাবে বিদ্রোহ দমন করেছিল?
উত্তর:
ব্রিটিশ দমন অন্তর্ভুক্ত—
- ইংল্যান্ড থেকে শক্তিবৃদ্ধি আনা হচ্ছে ।
- বিদ্রোহীদের সহজেই দোষী সাব্যস্ত করার জন্য কঠোর আইন পাস করা এবং সামরিক আইন জারি করা।
- দিল্লির মতো প্রধান কেন্দ্রগুলি পুনরুদ্ধার করা (সেপ্টেম্বর ১৮৫৭) এবং ১৮৫৯ সাল পর্যন্ত আওধ এবং অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র যুদ্ধ পরিচালনা করা ।
১২) ১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুনরুদ্ধারের পর কী ঘটেছিল?
উত্তর:
দিল্লি পুনরুদ্ধারের পর—
- বাহাদুর শাহ জাফরের বিচার হয় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- রেঙ্গুনে পাঠানো হয়েছিল ।
- যদিও দিল্লির পতন হয়েছিল, তবুও আওধের মতো অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহ অব্যাহত ছিল, যার ফলে আরও দুই বছরের সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হয়েছিল।
১৩) ১৮৫৮ সালের পর ব্রিটিশদের দ্বারা প্রবর্তিত প্রধান পরিবর্তনগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর:
১৮৫৮ সালের পর—
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কাছে হস্তান্তরিত হয় ।
- গভর্নর-জেনারেল ভাইসরয় (ক্রাউনের প্রতিনিধি) হন।
- ভারতীয় শাসকদের দত্তক পুত্র সহ উত্তরাধিকারীদের কাছে রাজ্য হস্তান্তরের অনুমতি ছিল, কিন্তু রাণীকে সার্বভৌম সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেনে নিতে হয়েছিল ।
১৪) বিদ্রোহীদের দাবি জানা কেন কঠিন? কোন উৎসগুলি সাহায্য করে?
উত্তর:
এটা কঠিন কারণ খুব কম বিদ্রোহী ঘোষণাই টিকে ছিল; বেশিরভাগ রেকর্ড ব্রিটিশ। সাহায্যকারী সূত্র—
- ব্রিটিশ সরকারী প্রতিবেদন, চিঠিপত্র, ডায়েরি, ইতিহাস
- বিদ্রোহী ঘোষণা/ ইশতাহার (সীমিত)
- সংবাদপত্রে এবং পরবর্তী লেখায় ঘটনার বিবরণ।
অতএব, ইতিহাসবিদরা মূলত ব্রিটিশ আখ্যানের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য পুনর্গঠন করেন।
১৫) ১৮৫৭ সালের ঘটনাবলী শিল্প ও সাহিত্যে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল?
উত্তর:
দৃষ্টিকোণ অনুসারে উপস্থাপনা ভিন্ন ছিল—
- ব্রিটিশ সংবাদপত্র এবং চিত্রকর্ম বিদ্রোহীদের হিংস্র হিসেবে দেখানো হয়েছিল, ইংরেজ নারী ও শিশুদের প্রতি হুমকি তুলে ধরা হয়েছিল এবং প্রতিশোধের ন্যায্যতা প্রমাণ করা হয়েছিল।
- "রিলিফ অফ লখনউ" (১৮৫৯) এর মতো চিত্রকর্ম ব্রিটিশ বীরত্বকে মহিমান্বিত করেছিল।
- জাতীয়তাবাদী আখ্যানগুলি পরবর্তীতে ১৮৫৭ সালকে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করে , যা নেতাদের বীরত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করে।
দীর্ঘ উত্তর ধরণের প্রশ্ন
১) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দীর্ঘমেয়াদী এবং তাৎক্ষণিক একাধিক কারণের কারণে ঘটেছিল:
( i ) রাজনৈতিক কারণ: আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে অনেক শাসক তাদের ক্ষমতা হারান। কোম্পানি তাদের স্বাধীনতা খর্ব করে, সেনাবাহিনী ভেঙে দেয়, অঞ্চল দখল করে এবং রাজপরিবারকে দুর্বল করে দেয়। মুঘল রাজবংশের অবসানের পরিকল্পনা জনগণকে আরও ক্ষুব্ধ করে। মুঘল রাজার নাম মুদ্রা থেকে মুছে ফেলা হয় এবং ১৮৫৬ সালের মধ্যে ঘোষণা করা হয় যে বাহাদুর শাহ জাফরই শেষ সম্রাট হবেন।
(ii) অর্থনৈতিক কারণ: কৃষক এবং জমিদাররা ভারী ভূমি রাজস্ব দাবি এবং কঠোর আদায় পদ্ধতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী অধিকার হারিয়ে শোষণের সম্মুখীন হন, যার ফলে ব্যাপক গ্রামীণ অস্থিরতা তৈরি হয়।
(iii) সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ: সতীদাহ নিষিদ্ধকরণ, ইংরেজি শিক্ষার প্রচার এবং ধর্মান্তরকে সমর্থনকারী ১৮৫০ সালের আইনের মতো ব্রিটিশ সংস্কারগুলি এই আশঙ্কা তৈরি করে যে ব্রিটিশরা ভারতীয় ধর্ম ও রীতিনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। মিশনারি কার্যকলাপ সন্দেহ বৃদ্ধি করে।
(iv) সামরিক কারণ: সিপাহীরা কম বেতন, ভাতা এবং বৈষম্যমূলক আচরণে অসন্তুষ্ট ছিল। অনেক নিয়ম ধর্মীয় অনুভূতি লঙ্ঘন করে, যার ফলে সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তাৎক্ষণিক ট্রিগার: এনফিল্ড রাইফেল কার্তুজ বিতর্ক (যার গুজব গরু এবং শূকরের চর্বি) সিপাহিদের বিদ্রোহ প্রকাশ্যে ঠেলে দেয়।
২) ১৮৫৭ সালের মীরাট থেকে দিল্লি পর্যন্ত প্রধান ঘটনাবলী এবং বিদ্রোহের বিস্তার বর্ণনা করো।
উত্তর:
বিদ্রোহটি সিপাহি বিদ্রোহ হিসেবে শুরু হয়েছিল কিন্তু শীঘ্রই এটি গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- ২৯ মার্চ ১৮৫৭: ব্যারাকপুরে অফিসারদের উপর আক্রমণের পর মঙ্গল পাণ্ডেকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়।
- ১০ মে ১৮৫৭: মিরাটে সিপাহিরা বিদ্রোহ করে, অস্ত্র দখল করে এবং কোম্পানির অফিসে আক্রমণ করে।
- দিল্লির উদ্দেশ্যে মার্চ: বাহাদুর শাহ জাফরের সমর্থনের জন্য সিপাহিরা দিল্লিতে চলে যান। দিল্লি রেজিমেন্টগুলিও বিদ্রোহ করে, ব্রিটিশ অফিসারদের হত্যা করে, অস্ত্র দখল করে এবং ভবনগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
- বাহাদুর শাহ জাফরকে নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল: বিদ্রোহীরা তাকে নেতা ঘোষণা করেছিল, বিদ্রোহকে বৈধতা এবং প্রতীকী ঐক্য প্রদান করেছিল।
- বিদ্রোহের বিস্তার: দিল্লির পর, বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রেজিমেন্টগুলি কানপুর, লখনউ, বেরেলির মতো প্রধান কেন্দ্রগুলিতে স্থানান্তরিত হয় এবং অনেক শহর ও গ্রামে উত্থান ঘটে। লোকেরা স্থানীয় নেতা, জমিদার, তালুকদার এবং প্রধানদের পিছনে সমবেত হয়।
এভাবে, সামরিক বিদ্রোহ হিসাবে যা শুরু হয়েছিল তা উত্তর ভারত জুড়ে অনেক সামাজিক গোষ্ঠীকে জড়িত করে একটি ব্যাপক বিদ্রোহে পরিণত হয়।
৩) "১৮৫৭ সালে গুজব এবং ভবিষ্যদ্বাণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।" উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
গুজব এবং ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্রোহের জন্য ভয়, ঐক্য এবং মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করেছিল।
( i ) কার্তুজের গুজব: এনফিল্ড কার্তুজগুলিতে গরু এবং শূকরের চর্বি মেশানো ছিল বলে বিশ্বাস করা হত । এটি হিন্দু এবং মুসলিম উভয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। এটি সিপাহিদের বিশ্বাস করিয়েছিল যে ব্রিটিশরা তাদের ধর্ম এবং বর্ণকে দূষিত করতে চায়।
(ii) ধর্মান্তরের ভয়: একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে যে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার লক্ষ্যে ছিল। ১৮৫০ সালের আইন যা ধর্মান্তরকে সহজ করে তুলেছিল এবং মিশনারি কার্যক্রমকে সন্দেহকে আরও জোরদার করেছিল।
(iii) আটা/হাড়-ধুলো গুজব: লোকেরা বিশ্বাস করত যে ময়দার সাথে হাড়-ধুলো মেশানো হয়, যা আবার ধর্মীয় বিশুদ্ধতার উপর পরিকল্পিত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
(iv) পলাশী সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী: বলা হয়েছিল যে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হবে ১৮৫৭ সালের ২৩ জুন (পলাশীর যুদ্ধের ১০০ বছর পরে)। এই ধরনের ধারণা মানুষকে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করেছিল যে ব্রিটিশদের পতন হবে।
লোকেরা কেন তাদের বিশ্বাস করেছিল: পূর্ববর্তী বছরগুলিতে, ব্রিটিশরা অনেক নতুন আইন, সংযুক্তি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সংস্কার প্রবর্তন করেছিল। এই দ্রুত পরিবর্তনগুলি মানুষকে ভাবতে বাধ্য করেছিল যে ব্রিটিশরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জীবনযাত্রার উপর আক্রমণ করছে। তাই গুজব গণসংহতির শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
৪) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র কেন আওধ হয়ে ওঠে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাঙ্গনের কারণে আওধের অংশগ্রহণ তীব্র ছিল।
( i ) আওধের সংযুক্তি (১৮৫৬): ব্রিটিশরা নবাব ওয়াজিদ আলী শাহকে অপশাসনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত করে। মানুষ আসলে নবাবকে ভালোবাসত এবং তার অপসারণের জন্য শোক প্রকাশ করত।
(ii) রাজসভা সংস্কৃতির পতন: রাজসভার অন্তর্ভুক্তির ফলে একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং রাজসভার অর্থনীতির অবসান ঘটে। সঙ্গীতজ্ঞ, নৃত্যশিল্পী, কবি, রাঁধুনি, রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং কর্মকর্তারা জীবিকা হারিয়েছিলেন। (iii)
তালুকদারদের উৎখাত : তালুকদারদের নিরস্ত্র করা হয় এবং তাদের দুর্গ ধ্বংস করা হয়। নতুন রাজস্ব ব্যবস্থার (যেমন সংক্ষিপ্ত বন্দোবস্ত) অধীনে, তারা রাজস্ব এবং কর্তৃত্বের বিশাল অংশ হারায়। এটি পুরানো সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে দেয়।
(iv) কৃষকদের দুর্ভোগ: কোম্পানি সরাসরি কৃষকদের সাথে রাজস্ব নিষ্পত্তি করে কিন্তু অতিরিক্ত কর নির্ধারণ করে। পূর্ববর্তী সময়ের মতো, ফসলের ব্যর্থতা বা উৎসবের সময় কৃষকদের কোনও নিশ্চিত ত্রাণ ছিল না।
(v) সিপাহি সংযোগ: অনেক সিপাহিকে আওধ থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল। গ্রামীণ মানুষ সেনাবাহিনীতে তাদের "ভাইদের" দ্বারা যে অন্যায় আচরণ এবং অপমানের সম্মুখীন হতে হয় তাও জানত।
এই সম্মিলিত কারণগুলি আওধকে বিদ্রোহের একটি মূল কেন্দ্রস্থল করে তুলেছিল।
৫) বিদ্রোহে বিভিন্ন গোষ্ঠীর (সিপাহী, কৃষক, জমিদার, শাসক, ধর্মীয় নেতা) ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর:
বিদ্রোহ কেবল সৈন্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অনেক সামাজিক গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রেরণা নিয়ে যোগ দিয়েছিল:
- সিপাহীরা: সামরিক অভিযোগ এবং ধর্মীয় ভয়ের (কার্তুজ, বিদেশী চাকরির নিয়ম, বৈষম্য) কারণে তারা বিদ্রোহ শুরু করেছিল।
- কৃষক: উচ্চ রাজস্ব, নিপীড়ন এবং সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষতি কৃষকদের বিদ্রোহে ঠেলে দেয়। তারা ব্রিটিশ কর্তৃত্বের প্রতীক এবং কখনও কখনও স্থানীয় নিপীড়কদের উপর আক্রমণ করে।
- জমিদার/ তালুকদার : ব্রিটিশ রাজস্ব নীতির কারণে অনেকেই তাদের অধিকারচ্যুত হয়েছিলেন এবং হারানো ক্ষমতা ও জমি ফিরে পেতে চেয়েছিলেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন।
- বাস্তুচ্যুত শাসকরা: আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে এবং ব্রিটিশ নীতি তাদের রাজবংশ এবং অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলার কারণে রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের মতো নেতারা যোগ দিয়েছিলেন।
- ধর্মীয় নেতারা: ফকির এবং স্থানীয় ধর্মপ্রচারকরা বিদেশী শাসন ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে এবং বিশ্বাস রক্ষা করে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।
- নগরবাসী: লখনউ এবং কানপুরের মতো জায়গায়, আক্রমণগুলি মহাজন এবং ব্রিটিশদের ধনী মিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করে, যা সামাজিক ক্ষোভও প্রকাশ করে।
এইভাবে, বিদ্রোহটি একাধিক অংশগ্রহণকারী এবং লক্ষ্য নিয়ে একটি বিস্তৃত উপনিবেশ বিরোধী বিদ্রোহে পরিণত হয়।
৬) ব্রিটিশরা কীভাবে বিদ্রোহ দমন করেছিল? পদ্ধতি এবং প্রধান ফলাফল উল্লেখ করো।
উত্তর:
কোম্পানি কঠোর সামরিক ও আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিদ্রোহ দমন করে:
( i ) সামরিক শক্তিবৃদ্ধি: ব্রিটিশরা ইংল্যান্ড থেকে সৈন্য এনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে।
(ii) সামরিক আইন এবং নতুন আইন: উত্তর ভারত সামরিক আইনের আওতায় আনা হয়েছিল; বিদ্রোহীদের সহজেই দোষী সাব্যস্ত করা যেত।
(iii) গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলি দখল: ১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুনরুদ্ধার করা হয় । ব্রিটিশরা তখন লক্ষ্ণৌ এবং আওধের মতো অন্যান্য কেন্দ্রগুলিতে মনোনিবেশ করে, যেখানে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
(iv) নৃশংস শাস্তি: বিদ্রোহীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত, ফাঁসি দেওয়া হত অথবা কামান থেকে উড়িয়ে দেওয়া হত যাতে ভয় ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সহিংস দমনকে সমর্থন করে।
(v) ভাগ করো এবং শাসন করো কৌশল: আওধে, ব্রিটিশরা কিছু জমিদারকে জমি ফেরত দিয়ে এবং বিদ্রোহীদের শাস্তি দিয়ে জমিদার এবং কৃষকদের মধ্যে ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করেছিল।
ফলাফল: ১৮৫৯ সালের শেষের দিকে , ব্রিটিশরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। তবে, তারা বুঝতে পারে যে তারা পুরনো কোম্পানি নীতিমালা দিয়ে ভারত শাসন করতে পারবে না, যার ফলে ১৮৫৮ সালে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটে।
৭) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর কোন প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল?
উত্তর:
বিদ্রোহ ব্রিটেনকে শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে বাধ্য করেছিল:
- ভারত সরকার আইন, ১৮৫৮: আরও প্রত্যক্ষ এবং "দায়িত্বশীল" শাসনের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ব্রিটিশ ক্রাউনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছিল।
- ভাইসরয় ব্যবস্থা: গভর্নর-জেনারেল ভাইসরয় হয়েছিলেন , তিনি রাজকুমারের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
- ভারতীয় শাসকদের প্রতি নীতি: প্রধানদের দত্তক পুত্র সহ উত্তরাধিকারীদের কাছে রাজ্য হস্তান্তরের অনুমতি ছিল, কিন্তু তাদের ব্রিটিশ রাণীকে সার্বভৌম সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেনে নিতে হয়েছিল ।
- মনোভাবের পরিবর্তন: ব্রিটিশরা আনুগত্য পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে ছিল, বিশেষ করে রাজপুত্র এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে, কারণ তারা এখন ব্যাপক অসন্তোষের বিপদ বুঝতে পেরেছিল।
এই পরিবর্তনগুলি আনুষ্ঠানিক ব্রিটিশ রাজের সূচনা এবং কোম্পানি শাসনের অবসানকে চিহ্নিত করে।
৮) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ কীভাবে শিল্প, সাহিত্য এবং জাতীয়তাবাদী স্মৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রতিনিধিত্ব জনমত এবং পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদকে রূপ দেয়।
ব্রিটিশ প্রতিনিধিত্ব:
- ব্রিটিশ সংবাদপত্র এবং প্রতিবেদনগুলি বিদ্রোহী সহিংসতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর আক্রমণের গল্প।
- "রিলিফ অফ লখনউ" (১৮৫৯) এর মতো চিত্রকর্মগুলি ব্রিটিশ বীরত্বকে উদযাপন করেছিল।
- "ইন মেমোরিয়াম" (১৮৫৯) এর মতো রচনাগুলিতে অসহায় নারী ও শিশুদের দেখানো হয়েছিল, যা ব্রিটিশদের প্রতি সহানুভূতি এবং ভারতীয়দের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করেছিল, প্রতিশোধকে ন্যায্যতা দিয়েছিল।
- কার্টুন এবং প্রিন্টগুলিতে প্রায়শই বিদ্রোহীদের নৃশংস এবং অসভ্য হিসেবে চিত্রিত করা হত।
ভারতীয়/জাতীয়তাবাদী প্রতিনিধিত্ব:
- বিংশ শতাব্দীতে, বিদ্রোহকে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে স্মরণ করা হত ।
- নেতাদেরকে নিপীড়ক সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকারী বীর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
- সাহিত্য, গল্প, চলচ্চিত্র এবং জনপ্রিয় স্মৃতি ঐক্য, ত্যাগ এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিদ্রোহকে জীবিত রেখেছে।
সুতরাং, ১৮৫৭ কেবল একটি ঘটনা ছিল না - এটি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ দ্বারা গঠিত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক স্মৃতিতে পরিণত হয়েছিল।
0 Comments